ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দূর্গাপূজায় টানা ৮দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:০০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

বেনাপোল প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৮ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়ছে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর। এসময় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। পূজার ছুটির কারনে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে এ ছুটিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দূর্গা পূজা উপলক্ষে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫দিন ও বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা ৫দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে বলে ওপারের সিএন্ডএফ এজেন্ট থেকে পত্র দিয়ে আমাদের জানিয়েছেন। তবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে টানা ৮দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোলে কাস্টম ও বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। বেনাপোল থেকে কোলকাতার দুরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। এ কারণে এ পথে আমদানিকারকরা আমদানিতে আগ্রহ বেশি। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ পণ্য বোঝাই ট্রাক আসে ভারত থেকে। আর ১০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। এ ছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাচাঁ মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৮০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। টানা ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব বাজারে পড়বে বলে আশংকা করছেন ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এদিকে একদিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দুই দেশের বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে টানা ৮দিন বন্ধ থাকার পর তীব্র যানজট ও পণ্যজটের কবলে পড়বে দুই দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী বলেন, শারদীয় দূর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারনে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরের কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। অপরদিকে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি বন্ধ আছে। এবার পূজায় লম্বা ছুটি পেয়ে আমাদের সদস্যরা অনেক খুশি। ২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল থেকে আবারও দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হবে।
তিনি বলেন, তবে পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার যদি ইলিশ মাছ ভারতে পাঠায় তবে বিশেষ ব্যবস্থায় তা খালাস করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়টি ওপারের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর পণ্য উঠানামা, খালাস ও পণ্যের শুল্কায়ন কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাক চালকরা তাদের খালি ট্রাক নিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারবেন। বন্ধের মধ্যে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারতে পুজার ছুটির কারনে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ভারতের সাথে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভারত থেকে আগত বা বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী পাসপোর্টযাত্রীগন স্বাভাবিক নিয়মে যাতায়াত করতে পারবেন। পূজার সময় যাত্রীর চাপ একটু বেশি থাকে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে যাত্রী সেবা বাড়াতে ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

দাউদকান্দিতে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান

দূর্গাপূজায় টানা ৮দিন বন্ধ থাকবে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি

প্রকাশিত : ০৭:০০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৮ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়ছে দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর। এসময় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। পূজার ছুটির কারনে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে এ ছুটিতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দূর্গা পূজা উপলক্ষে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫দিন ও বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর টানা ৫দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে বলে ওপারের সিএন্ডএফ এজেন্ট থেকে পত্র দিয়ে আমাদের জানিয়েছেন। তবে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে টানা ৮দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোলে কাস্টম ও বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। বেনাপোল থেকে কোলকাতার দুরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। এ কারণে এ পথে আমদানিকারকরা আমদানিতে আগ্রহ বেশি। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ পণ্য বোঝাই ট্রাক আসে ভারত থেকে। আর ১০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। এ ছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাচাঁ মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ৮০ ভাগই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। টানা ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব বাজারে পড়বে বলে আশংকা করছেন ব্যবসায়ীসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা।

এদিকে একদিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দুই দেশের বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে টানা ৮দিন বন্ধ থাকার পর তীব্র যানজট ও পণ্যজটের কবলে পড়বে দুই দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী বলেন, শারদীয় দূর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারনে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরের কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। অপরদিকে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি বন্ধ আছে। এবার পূজায় লম্বা ছুটি পেয়ে আমাদের সদস্যরা অনেক খুশি। ২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল থেকে আবারও দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হবে।
তিনি বলেন, তবে পূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার যদি ইলিশ মাছ ভারতে পাঠায় তবে বিশেষ ব্যবস্থায় তা খালাস করা হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়টি ওপারের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দরে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর পণ্য উঠানামা, খালাস ও পণ্যের শুল্কায়ন কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাক চালকরা তাদের খালি ট্রাক নিয়ে দেশে ফিরে যেতে পারবেন। বন্ধের মধ্যে বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারতে পুজার ছুটির কারনে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ভারতের সাথে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভারত থেকে আগত বা বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী পাসপোর্টযাত্রীগন স্বাভাবিক নিয়মে যাতায়াত করতে পারবেন। পূজার সময় যাত্রীর চাপ একটু বেশি থাকে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে যাত্রী সেবা বাড়াতে ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।