খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল অডিটরিয়ামে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত যুবসমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পাহাড়ের তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মাদক, সহিংসতা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করা জরুরি। পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের তরুণদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও ২০৩ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মং সার্কেলের সার্কেল চিফ সাচিং প্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান এবং খাগড়াছড়ি রিজিয়নের জিটু-আই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যুবসমাজকে উন্নয়ন কার্যক্রমের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পর্যটন, কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কারিগরি খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। যুবসমাজের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় যুবসমাজের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পাহাড়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















