ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

কালিয়াকৈরে পিচঢালাই রাস্তা এখন ‘কাদার সাগর’: হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডালাস রাস্তা তথা মাটিকাটা মাঝুখান এলাকার পিচঢালাই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল দশায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাতায়াতের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে গেছে ইট-সুরকি এবং জমে আছে হাঁটুসমান কাদা-পানি। অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান চরম ঝুঁকি নিয়ে এই কাদা মাড়িয়েই চলাচল করছে। রাস্তার একপাশে বিল ও জলাশয় থাকায় পথটি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃষ্টি হলেই বিলের পানি রাস্তায় উঠে রাস্তা ও বিল একাকার হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন।

দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী মো. রুবেল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটির এই অবস্থা। তবে গত তিন বছর ধরে এটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকদের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই।”

সুমি আক্তার নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি এতই খারাপ যে প্রতিদিন কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। কারখানায় পৌঁছাতে দেরি হলে হাজিরা কাটা পড়ে। আমরা প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে কাজে যাই।”

ঝুঁকির কথা জানিয়ে অটোরিকশাচালক আল আমিন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে রোগী নিয়ে যেতেও ভয় লাগে। গাড়ি উল্টে বিলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা দ্রুত রাস্তার মেরামত চাই।”

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আমতলা সড়কসহ গ্রামের অন্যান্য ছোট ছোট রাস্তাগুলো টেকসই মেরামতের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

দুর্ভোগের বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান জানান, আমতলা সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। মৌচাক একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা হওয়ায় এখানে জনদুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে আগামী কিছুদিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “আমতলা সড়কের অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আজই উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। সাময়িকভাবে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইটের সোলিং বা বালু ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এলজিইডি-র কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) মো. মাকসুদুন্নবী জানান, রাস্তাটি তাদের তালিকাভুক্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া, ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি এবং একটি প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই ঢালাইসহ পূর্ণ সংস্কার কাজ শুরু হবে। আপাতত বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশলী দপ্তরকে বারবার জানিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার মেলেনি। অবিলম্বে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দাউদকান্দিতে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান

কালিয়াকৈরে পিচঢালাই রাস্তা এখন ‘কাদার সাগর’: হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

প্রকাশিত : ০৭:১৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডালাস রাস্তা তথা মাটিকাটা মাঝুখান এলাকার পিচঢালাই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল দশায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাতায়াতের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে জীবন হাতে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে গেছে ইট-সুরকি এবং জমে আছে হাঁটুসমান কাদা-পানি। অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান চরম ঝুঁকি নিয়ে এই কাদা মাড়িয়েই চলাচল করছে। রাস্তার একপাশে বিল ও জলাশয় থাকায় পথটি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃষ্টি হলেই বিলের পানি রাস্তায় উঠে রাস্তা ও বিল একাকার হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন।

দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এই রাস্তায় চলাচলকারী পথচারী মো. রুবেল মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটির এই অবস্থা। তবে গত তিন বছর ধরে এটি পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পোশাক শ্রমিকদের দুর্ভোগের কোনো শেষ নেই।”

সুমি আক্তার নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিক কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি এতই খারাপ যে প্রতিদিন কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। কারখানায় পৌঁছাতে দেরি হলে হাজিরা কাটা পড়ে। আমরা প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে কাজে যাই।”

ঝুঁকির কথা জানিয়ে অটোরিকশাচালক আল আমিন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে রোগী নিয়ে যেতেও ভয় লাগে। গাড়ি উল্টে বিলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা দ্রুত রাস্তার মেরামত চাই।”

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আমতলা সড়কসহ গ্রামের অন্যান্য ছোট ছোট রাস্তাগুলো টেকসই মেরামতের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

দুর্ভোগের বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান জানান, আমতলা সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। মৌচাক একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা হওয়ায় এখানে জনদুর্ভোগ মেনে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে আগামী কিছুদিনের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “আমতলা সড়কের অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আজই উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। সাময়িকভাবে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইটের সোলিং বা বালু ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এলজিইডি-র কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) মো. মাকসুদুন্নবী জানান, রাস্তাটি তাদের তালিকাভুক্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া, ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি এবং একটি প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই ঢালাইসহ পূর্ণ সংস্কার কাজ শুরু হবে। আপাতত বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশলী দপ্তরকে বারবার জানিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার মেলেনি। অবিলম্বে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।