ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে যন্তর মন্তর কীভাবে বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে উঠল?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে সারা ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনের মূল কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত দিল্লির যন্তর-মন্তর এখন আর বিক্ষোভ-প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেেদেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন দিল্লি পুলিশ।

এখন যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লির অন্য তিনটি জায়গাকে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছে পুলিশ। সেগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার দ্বারস্থ হয়। ঠিক এর আগের দিন সোমবার দিল্লির পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল যে যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সিজেপি এটিকে মানুষের প্রতিবাদ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার জন্য তারা দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ২ অক্টোবর থেকে যন্তর মন্তর কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর সিজেপির বিক্ষোভের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতেও ওঠে। সেখানে আবেদনকারীরা দাবি করেন, নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া উচিত।

এর আগে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ এবং সহিংসতাও ঘটে।

এবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আন্দোলনের ঘোষণা দেয় এবং বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী জোট ইনডিয়া ২ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপরই যন্তর মন্তর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত শনিবার দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের ত্রিসীমানাতেই ঘেঁষতে দেয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির মতো দানবীয় নৈপুণ্যও যার সঙ্গে তুলনীয় নয়

ভারতে যন্তর মন্তর কীভাবে বিক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে উঠল?

প্রকাশিত : ০৩:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে সারা ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনের মূল কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত দিল্লির যন্তর-মন্তর এখন আর বিক্ষোভ-প্রদর্শনের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেেদেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন দিল্লি পুলিশ।

এখন যন্তর মন্তরের পরিবর্তে দিল্লির অন্য তিনটি জায়গাকে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছে পুলিশ। সেগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার দ্বারস্থ হয়। ঠিক এর আগের দিন সোমবার দিল্লির পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল যে যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে সিজেপি এটিকে মানুষের প্রতিবাদ করার এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছেন, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার জন্য তারা দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ২ অক্টোবর থেকে যন্তর মন্তর কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর সিজেপির বিক্ষোভের পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতেও ওঠে। সেখানে আবেদনকারীরা দাবি করেন, নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া উচিত।

এর আগে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে যন্তর মন্তরে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ এবং সহিংসতাও ঘটে।

এবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আন্দোলনের ঘোষণা দেয় এবং বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী জোট ইনডিয়া ২ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপরই যন্তর মন্তর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত শনিবার দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের ত্রিসীমানাতেই ঘেঁষতে দেয়নি।