ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সমাজের অবক্ষয় দূর করতে সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার : আবদুস সালাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, একটি জাতির পরিচয় তার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও কৃষ্টির মধ্যে নিহিত। এসব দুর্বল হয়ে পড়লে জাতিও শক্তিশালী হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়-এর ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাটক, গান, নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার কারণে সংস্কৃতি অঙ্গনে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সমাজেও। বর্তমানে মাদকাসক্তি, মা-বাবার প্রতি অসম্মান এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাবসহ নানা সামাজিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা জরুরি।

আবদুস সালাম বলেন, আগের প্রজন্মের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল। তারা দেশ ও সমাজকে ভালোবেসে নান্দনিক সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে আগের প্রজন্মের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে হবে। তা না হলে সামাজিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

নান্দনিকের ৪৯ বছর পেরিয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সংগঠনটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনটির ৫০ বছর পূর্তির সব কর্মসূচির দায়দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। তার মতে, নাটক, গান ও নৃত্যচর্চাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শিল্পকলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সঙ্গে তরুণদের উদ্যমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দুই প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দেশের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বিনোদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে সিনেমা হলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা দরকার। এসব সংগঠনকে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে, কাউকে বাদ দিয়ে নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের ঋণবৃদ্ধিতে জনগণের কষ্ট বাড়ে কেন?

সমাজের অবক্ষয় দূর করতে সাংস্কৃতিক জাগরণ দরকার : আবদুস সালাম

প্রকাশিত : ১১:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, একটি জাতির পরিচয় তার সংস্কৃতি, সাহিত্য ও কৃষ্টির মধ্যে নিহিত। এসব দুর্বল হয়ে পড়লে জাতিও শক্তিশালী হতে পারে না।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়-এর ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাটক, গান, নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, গুণীজনদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার কারণে সংস্কৃতি অঙ্গনে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সমাজেও। বর্তমানে মাদকাসক্তি, মা-বাবার প্রতি অসম্মান এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাবসহ নানা সামাজিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করা জরুরি।

আবদুস সালাম বলেন, আগের প্রজন্মের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল। তারা দেশ ও সমাজকে ভালোবেসে নান্দনিক সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে আগের প্রজন্মের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে হবে। তা না হলে সামাজিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।

নান্দনিকের ৪৯ বছর পেরিয়ে ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে সংগঠনটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনটির ৫০ বছর পূর্তির সব কর্মসূচির দায়দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। তার মতে, নাটক, গান ও নৃত্যচর্চাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শিল্পকলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রবীণ শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সঙ্গে তরুণদের উদ্যমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দুই প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দেশের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের বিনোদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে সিনেমা হলসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা দরকার। এসব সংগঠনকে সহযোগিতা করতে হবে, যাতে তারা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে, কাউকে বাদ দিয়ে নয়।