ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ প্রয়াণ বার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:০৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

সাংবাদিক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৫ বছর বয়সে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ফখরুদ্দীন ১৯৫৮ সালে ‘কচি-কাঁচার আসর’-এর আহ্বায়ক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। তিনি তৎকালীন বিখ্যাত দৈনিক দ্য পাকিস্তান অবজারভার ও দ্য মর্নিং নিউজ-এ অসংখ্য নিবন্ধ লিখেছেন।

দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনের দ্য ডেইলি মিরর-এর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন।

তার সাংবাদিকতা জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ওপর প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক জন পিলজারের বাংলাদেশে অন্যতম সহযোগীদের একজন হয়ে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা।

বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জন পিলজারের প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্যচিত্র ‘অ্যান আনফ্যাশনেবল ট্র্যাজেডি’ ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সম্প্রচারিত হয়। ওই তথ্যচিত্রে তার বক্তব্যের দৃশ্যও ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্যচিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্নাতক সম্পন্ন করার আগেই ফখরুদ্দীনের বাংলা অনুবাদ শেক্সপিয়রের ‘সনেট’ প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জন পিলজার তার বিখ্যাত ‘হিরোজ’ গ্রন্থে ফখরুদ্দীনকে নিয়ে প্রায় তিন পৃষ্ঠা লিখেছেন এবং তার একটি ছবিও সংযুক্ত করেছেন।

১৯৮৬ সালে লন্ডনের জনাথন কেপ এবং ১৯৮৯ সালে প্যান বুকস লিমিটেড থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। বইটিতে সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

তার লেখা দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা, তোর আকুল করা রূপের সুধায় হৃদয় আমার যায় জুড়িয়ে’ ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা হয়। গানটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাপ্তাহিক হলিডে-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খ্যাতিমান এ সাংবাদিকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়ি– রাঙ্গামাটি সাজেক হামলা অভিযোগে আধাবেলা অবরোধ

সাংবাদিক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ প্রয়াণ বার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ

প্রকাশিত : ০৭:০৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাংবাদিক এ ইউ এম ফখরুদ্দীনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৫ বছর বয়সে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

ফখরুদ্দীন ১৯৫৮ সালে ‘কচি-কাঁচার আসর’-এর আহ্বায়ক হিসেবে সংবাদমাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। তিনি তৎকালীন বিখ্যাত দৈনিক দ্য পাকিস্তান অবজারভার ও দ্য মর্নিং নিউজ-এ অসংখ্য নিবন্ধ লিখেছেন।

দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনের দ্য ডেইলি মিরর-এর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন।

তার সাংবাদিকতা জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল বাংলাদেশের ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ওপর প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক জন পিলজারের বাংলাদেশে অন্যতম সহযোগীদের একজন হয়ে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করা।

বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জন পিলজারের প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্যচিত্র ‘অ্যান আনফ্যাশনেবল ট্র্যাজেডি’ ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সম্প্রচারিত হয়। ওই তথ্যচিত্রে তার বক্তব্যের দৃশ্যও ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের বাস্তবতা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্যচিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্নাতক সম্পন্ন করার আগেই ফখরুদ্দীনের বাংলা অনুবাদ শেক্সপিয়রের ‘সনেট’ প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জন পিলজার তার বিখ্যাত ‘হিরোজ’ গ্রন্থে ফখরুদ্দীনকে নিয়ে প্রায় তিন পৃষ্ঠা লিখেছেন এবং তার একটি ছবিও সংযুক্ত করেছেন।

১৯৮৬ সালে লন্ডনের জনাথন কেপ এবং ১৯৮৯ সালে প্যান বুকস লিমিটেড থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। বইটিতে সমসাময়িক বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাভিত্তিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

তার লেখা দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার বাংলা মা, তোর আকুল করা রূপের সুধায় হৃদয় আমার যায় জুড়িয়ে’ ১৯৭২ সালে রেকর্ড করা হয়। গানটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সাপ্তাহিক হলিডে-এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খ্যাতিমান এ সাংবাদিকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।