ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দুমকিতে রাস্তার বেহাল দশা -পঁচিশ বছর যাবৎ অবহেলিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

দুমকি প্রতিনিধিঃ সরকার যখন ‘গ্রাম হবে শহর’ স্লোগান নিয়ে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় চলছে উল্টো চিত্র। দীর্ঘ ২৫টি বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কে। ইটের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড়-ছোট খানাখন্দ, যা এখন কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
​উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বার বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টার এর বাড়ি পর্যন্ত ০.৮৫০ কি.মি এই সড়কটি (আইডি নম্বর: ৫৭৮৯৫৪১১৪) ২০০১ সালে প্রথম ইটের সলিং করা হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে ২৫টি বছর। এর মধ্যে কত সরকারের অদলবদল হলো, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি এই ০.৮৫০ কিলো সড়কের ভাগ্য। খানাখন্দে ভরপুর এ রাস্তাটি এখন পথচারীদের জন্য স্রেফ একটি ‘মরণফাঁদ’।
​সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৭ থেকে ৮টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই বিপজ্জনক পথ পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে কাদা আর গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তায় কোনো ধরনের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্বজনদের একমাত্র উপায়—তাকে কোলে করে কিংবা খাটিয়ায় বয়ে নিয়ে যাওয়া।

​জলিশা প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক সোহেল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চরম অবহেলিত এক এলাকায় বাস করছি। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
​নিজের রুটি-রুজির চরম সংকটের কথা জানান স্থানীয় ভ্যানচালক মনির। তিনি বলেন, “উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এই অবস্থা বিশ্বাস করা যায় না! গাড়ি নিয়ে যেতে কলিজা পানি হয়ে যায়। আমরা অতি দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।”
​সবচেয়ে হৃদয়বিদারক আকুতি ঝরে পড়েছে জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়মের কণ্ঠে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর রাস্তার সীমাহীন কষ্টের কথা তুলে ধরে মরিয়ম আকুল আবেদন জানিয়ে বলে, “আমরা এমনিতে প্রতিবন্ধী, চলাফেরা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমাদের এই করুণ অবস্থা দেখে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া যেন রাস্তাটি পাকা (পিচঢালাই) করে দেন, যাতে আমরা গাড়ি করে স্কুলে যেতে পারি।”
​অভিযোগের পাহাড় জমলেও কতদিনে মেটবে এই জনভোগান্তি, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ ব্যাপারে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) মঈনুল আজম বলেন,এই রাস্তাটা ইতিপূর্বে যে প্রকল্পগুলো ছিলো তাতে ডিপিবিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, নতুন যে প্রজেক্টগুলো আসতেছে ডিপিবি তে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সেখানে এটা যুক্ত করে দেয়া হবে এবং আশা করছি অতিসত্বর রাস্তাটা বাস্তবায়ন হবে।
​এই এলাকার অবহেলিত হাজার হাজার মানুষ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের এই মানবিক ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইপিএলের চারু শর্মাকে দিয়ে নতুন টুর্নামেন্টের নিলাম করাচ্ছে বিসিবি

দুমকিতে রাস্তার বেহাল দশা -পঁচিশ বছর যাবৎ অবহেলিত

প্রকাশিত : ০৩:১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দুমকি প্রতিনিধিঃ সরকার যখন ‘গ্রাম হবে শহর’ স্লোগান নিয়ে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় চলছে উল্টো চিত্র। দীর্ঘ ২৫টি বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কে। ইটের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড়-ছোট খানাখন্দ, যা এখন কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
​উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সহিদ মেম্বার বাড়ি থেকে সৈয়দ শাহআলম মাস্টার এর বাড়ি পর্যন্ত ০.৮৫০ কি.মি এই সড়কটি (আইডি নম্বর: ৫৭৮৯৫৪১১৪) ২০০১ সালে প্রথম ইটের সলিং করা হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে ২৫টি বছর। এর মধ্যে কত সরকারের অদলবদল হলো, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি এই ০.৮৫০ কিলো সড়কের ভাগ্য। খানাখন্দে ভরপুর এ রাস্তাটি এখন পথচারীদের জন্য স্রেফ একটি ‘মরণফাঁদ’।
​সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৭ থেকে ৮টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।

জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং জলিশা তালুকদার ইসলামিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই বিপজ্জনক পথ পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে কাদা আর গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তায় কোনো ধরনের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্বজনদের একমাত্র উপায়—তাকে কোলে করে কিংবা খাটিয়ায় বয়ে নিয়ে যাওয়া।

​জলিশা প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক সোহেল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চরম অবহেলিত এক এলাকায় বাস করছি। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো হেলদোল নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
​নিজের রুটি-রুজির চরম সংকটের কথা জানান স্থানীয় ভ্যানচালক মনির। তিনি বলেন, “উপজেলা সদরের এত কাছে হয়েও রাস্তাটির এই অবস্থা বিশ্বাস করা যায় না! গাড়ি নিয়ে যেতে কলিজা পানি হয়ে যায়। আমরা অতি দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই।”
​সবচেয়ে হৃদয়বিদারক আকুতি ঝরে পড়েছে জলিশা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়মের কণ্ঠে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর রাস্তার সীমাহীন কষ্টের কথা তুলে ধরে মরিয়ম আকুল আবেদন জানিয়ে বলে, “আমরা এমনিতে প্রতিবন্ধী, চলাফেরা করতে প্রচণ্ড কষ্ট হয়। আমাদের এই করুণ অবস্থা দেখে হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া যেন রাস্তাটি পাকা (পিচঢালাই) করে দেন, যাতে আমরা গাড়ি করে স্কুলে যেতে পারি।”
​অভিযোগের পাহাড় জমলেও কতদিনে মেটবে এই জনভোগান্তি, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো রোডম্যাপ নেই কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ ব্যাপারে দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) মঈনুল আজম বলেন,এই রাস্তাটা ইতিপূর্বে যে প্রকল্পগুলো ছিলো তাতে ডিপিবিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, নতুন যে প্রজেক্টগুলো আসতেছে ডিপিবি তে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সেখানে এটা যুক্ত করে দেয়া হবে এবং আশা করছি অতিসত্বর রাস্তাটা বাস্তবায়ন হবে।
​এই এলাকার অবহেলিত হাজার হাজার মানুষ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের এই মানবিক ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।