ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত জলঢাকার কৃষকেরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

নীলফামারী প্রতিনিধি: দেশের উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক ও মাঝারি আলু চাষিরা। আগাম আলু রোপনের জন্য হিমাগার থেকে বিভিন্ন জাতের আলু বীজ সংগ্রহ,জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ সহ বিভিন্ন কাজে।দিনভর ব্যস্ত রাখছেন নিজেদের। ভাদ্র আশ্বিন মাসের স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করে ঘরে তুলে সেই জমিতে আলু রোপনের পালা। তাইএবার আগাম বিভিন্ন জাতের আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন।তাই এবার আগাম বিভিন্ন জাতের আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ উপজেলার মানুষ কৃষি নির্ভর। আর এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ উপজেলায় বিভিন্ন রকম ফসল উৎপাদন হয় উর্বর দোআঁশ,বেলে দোআঁশ মাটিতে । তবে জলঢাকায় আলু চাষ হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে।এ এলাকার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়।

শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা ও জানা গেছে, ভাদ্র আশ্বিন মাসের স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আলু রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তাই এবার আগাম আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও সার, বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে প্রতি বছর আলু চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেক প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষক। এ বছরেও অনুকূল পরিবেশে আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত কৃষক।

বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোআঁশ মাঠগুলোতে ৫০-৫৫ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতের আগাম আলুর বীজ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। যার আলু যত আগে উঠবে, সে তত বেশি লাভবান হবেন। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু ভোক্তাকে দিতে পারলে চড়া বাজারমূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভ প্রত্যাশা তাদের।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরে চাষ হয়েছিল চার হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। সে হিসাবে গতবারের চেয়ে এবার ৪০০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হবে।

কৈমারী ইউনিয়নের ইউনিয়নের রথবাজার গ্রামের আলু চাষি শাহিনুর বলেন, ‘গত বছর ধান কাটার পর ২ একর জমির আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দ্বিগুণ টাকা লাভ হয়েছে । এবারও ৪ একরের বেশি জমিতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে উত্তোলন যোগ্য সেভেন জাতের আলু রোপণ করছি।’

ওই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের কৃষক তরিকুল বলেন, ‘এ অঞ্চলের জমিগুলো (মাটি) একদম উঁচু এবং বালুমাটি মিশ্রিত। ভারি বৃষ্টিপাত হলেও তেমন কোনও বড় ধরনের ক্ষতির ভয় থাকে না। কয়েক দিন আগে অতিবৃষ্টি হলেও মাটি শুষ্ক রয়েছে। তাই আগেভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু রোপণ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গতবারের চেয়ে ফলন ভালোর আশায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছি।গাবরোল এলাকার কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। আগুর (নির্দিষ্ট সময়ের আগে) আলু উত্তোলন করতে পারলে ৬০ -৭০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি করা যাবে। গত বছর ধান কাটার পর এই জমিতে চাষ করা আলু ক্ষেতে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিঘায় লাভ করেছি ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

একই ইউনিয়নের রথবাজার এলাকার পরিতোষ এবার আলু চাষ করেছেন ৪ বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, আমাদের এদিকের ডাঙ্গা জমিগুলো একদম উঁচু এবং বালুমিশ্রিত। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তেমন ভয় থাকে না। তাই আগে ভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু চাষ করছি।ডাউয়াবারী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের আলুচাষি আলম হোসেন বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ৩৯ বস্তা ফলন পাই। যা উত্তোলন করে ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করে খরচ বাদে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার ধান কাটার পর ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। উপজেলার খুটামাা ইউনিয়নের কিশামত বটতলা গ্রামের আলুচাষি রিপন ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের মতো এবারও ১১ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের প্রস্ততি নিয়েছি। এর মধ্যে সেভেন জাতের চার বিঘা জমিতে বাকি সাত বিঘা দুই-একদিনের মধ্যে রোপণ শেষ করবো। আবহাওয়া ভালো থাকলে ৫৮ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আলু ঘরে তুলতে পারবো। বাজারদর ভালো পেলে সার, বীজ, পরিবহন ও শ্রমিক বাবদ খরচ বাদে ১১ বিঘায় লাভ হবে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। একই এলাকার মমতাজ আলী ছয় বিঘা, আব্দুল জব্বার ১৩ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন। তারা জানান, এ এলাকার মাটি উঁচু এবং বালুমিশ্রিত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আগাম আলু চাষে তেমন কোনও ভয় থাকে না। ফলন কম হলেও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে চড়া দামে আলু বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভবান হওয়া যায়।আলুচাষি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘যার আলু যত আগে উঠবে সেই কৃষক তত ভালো দাম পাবেন। তাই সবাই টাকা পয়সা ব্যয় করে দুই টাকা লাভের আশায় আগাম সেভেন জাতের আলুসহ গ্র্যানুল্যা, সাকিতা, কারেজ ওজাম প্লাস আলু রোপণ করছে।

কৃষি বিভাগ জানান এবার ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে জলঢাকা উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হবে ১২ টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপোযাগী। প্রতি বছর এ এলাকার কৃষক আগাম আলু চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করে থাকেন। গত বছরের চেয়ে এবার ৪০০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য আমাদের কৃষি অফিস থেকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আগাম আলু চাষে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’তিনি আরো বলেন এখানকার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে আগাম আলু চাষ করা হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো পেলে কৃষকরা এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ও লাভবান হয়ে পরিবারে সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তাইআগাম ধান, আগাম আলু চাষে এ জনপদে অভাব এখন অতীত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার সফর মিমের মনকে দিল প্রশান্তি

আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত জলঢাকার কৃষকেরা

প্রকাশিত : ০৩:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারী প্রতিনিধি: দেশের উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক ও মাঝারি আলু চাষিরা। আগাম আলু রোপনের জন্য হিমাগার থেকে বিভিন্ন জাতের আলু বীজ সংগ্রহ,জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ সহ বিভিন্ন কাজে।দিনভর ব্যস্ত রাখছেন নিজেদের। ভাদ্র আশ্বিন মাসের স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করে ঘরে তুলে সেই জমিতে আলু রোপনের পালা। তাইএবার আগাম বিভিন্ন জাতের আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন।তাই এবার আগাম বিভিন্ন জাতের আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ উপজেলার মানুষ কৃষি নির্ভর। আর এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ উপজেলায় বিভিন্ন রকম ফসল উৎপাদন হয় উর্বর দোআঁশ,বেলে দোআঁশ মাটিতে । তবে জলঢাকায় আলু চাষ হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে।এ এলাকার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়।

শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা ও জানা গেছে, ভাদ্র আশ্বিন মাসের স্বল্পমেয়াদি আগাম আউশ ও আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করে সেই জমিতে আলু রোপনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তাই এবার আগাম আলু রোপণকে ঘিরে মাঠজুড়ে কৃষকের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দ্বিগুণ লাভের আশায় মাঠে কেউবা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও সার, বীজ সংগ্রহ নিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে প্রতি বছর আলু চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেক প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষক। এ বছরেও অনুকূল পরিবেশে আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত কৃষক।

বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোআঁশ মাঠগুলোতে ৫০-৫৫ দিনে উত্তোলনযোগ্য সেভেন জাতের আগাম আলুর বীজ রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। যার আলু যত আগে উঠবে, সে তত বেশি লাভবান হবেন। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু ভোক্তাকে দিতে পারলে চড়া বাজারমূল্য পেয়ে দ্বিগুণ লাভ প্রত্যাশা তাদের।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি বছর ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরে চাষ হয়েছিল চার হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। সে হিসাবে গতবারের চেয়ে এবার ৪০০ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হবে।

কৈমারী ইউনিয়নের ইউনিয়নের রথবাজার গ্রামের আলু চাষি শাহিনুর বলেন, ‘গত বছর ধান কাটার পর ২ একর জমির আলু ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দ্বিগুণ টাকা লাভ হয়েছে । এবারও ৪ একরের বেশি জমিতে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে উত্তোলন যোগ্য সেভেন জাতের আলু রোপণ করছি।’

ওই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের কৃষক তরিকুল বলেন, ‘এ অঞ্চলের জমিগুলো (মাটি) একদম উঁচু এবং বালুমাটি মিশ্রিত। ভারি বৃষ্টিপাত হলেও তেমন কোনও বড় ধরনের ক্ষতির ভয় থাকে না। কয়েক দিন আগে অতিবৃষ্টি হলেও মাটি শুষ্ক রয়েছে। তাই আগেভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু রোপণ করছি। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গতবারের চেয়ে ফলন ভালোর আশায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছি।গাবরোল এলাকার কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। আগুর (নির্দিষ্ট সময়ের আগে) আলু উত্তোলন করতে পারলে ৬০ -৭০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি করা যাবে। গত বছর ধান কাটার পর এই জমিতে চাষ করা আলু ক্ষেতে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিঘায় লাভ করেছি ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

একই ইউনিয়নের রথবাজার এলাকার পরিতোষ এবার আলু চাষ করেছেন ৪ বিঘা জমিতে। তিনি বলেন, আমাদের এদিকের ডাঙ্গা জমিগুলো একদম উঁচু এবং বালুমিশ্রিত। ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তেমন ভয় থাকে না। তাই আগে ভাগে দ্বিগুণ লাভের আশায় আগাম আলু চাষ করছি।ডাউয়াবারী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্রামের আলুচাষি আলম হোসেন বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ৩৯ বস্তা ফলন পাই। যা উত্তোলন করে ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করে খরচ বাদে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার ধান কাটার পর ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। উপজেলার খুটামাা ইউনিয়নের কিশামত বটতলা গ্রামের আলুচাষি রিপন ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের মতো এবারও ১১ বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের প্রস্ততি নিয়েছি। এর মধ্যে সেভেন জাতের চার বিঘা জমিতে বাকি সাত বিঘা দুই-একদিনের মধ্যে রোপণ শেষ করবো। আবহাওয়া ভালো থাকলে ৫৮ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আলু ঘরে তুলতে পারবো। বাজারদর ভালো পেলে সার, বীজ, পরিবহন ও শ্রমিক বাবদ খরচ বাদে ১১ বিঘায় লাভ হবে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। একই এলাকার মমতাজ আলী ছয় বিঘা, আব্দুল জব্বার ১৩ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন। তারা জানান, এ এলাকার মাটি উঁচু এবং বালুমিশ্রিত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে আগাম আলু চাষে তেমন কোনও ভয় থাকে না। ফলন কম হলেও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে চড়া দামে আলু বিক্রি করে দ্বিগুণ লাভবান হওয়া যায়।আলুচাষি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘যার আলু যত আগে উঠবে সেই কৃষক তত ভালো দাম পাবেন। তাই সবাই টাকা পয়সা ব্যয় করে দুই টাকা লাভের আশায় আগাম সেভেন জাতের আলুসহ গ্র্যানুল্যা, সাকিতা, কারেজ ওজাম প্লাস আলু রোপণ করছে।

কৃষি বিভাগ জানান এবার ৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে জলঢাকা উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হবে ১২ টন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আগাম আলু চাষের জন্য খুবই উপোযাগী। প্রতি বছর এ এলাকার কৃষক আগাম আলু চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করে থাকেন। গত বছরের চেয়ে এবার ৪০০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য আমাদের কৃষি অফিস থেকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আগাম আলু চাষে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’তিনি আরো বলেন এখানকার উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে আগাম আলু চাষ করা হবে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো পেলে কৃষকরা এবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ও লাভবান হয়ে পরিবারে সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। তাইআগাম ধান, আগাম আলু চাষে এ জনপদে অভাব এখন অতীত।