ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশিরা মার্কিন ভিসা বন্ডের জন্য যেসব সমস্যায় পড়বেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

‌‌‘‘ইচ্ছা ছিল আমার সমাবর্তনের সময় মা-বাবা উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু এখন সেটা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেল,’’ এভাবে বলছিলেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এক পিএইচডি শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম ওঠায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি এই কথা বলেন।

ভিসা বন্ডের নিয়ম অনুযায়ী এখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বি১ বা বি২ ভিসা পেতে একেকজনকে গুনতে হবে পাঁচ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, বাংলাদেশের কেউ যদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি১) এবং পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় (বি২) আবেদন করেন এবং তারা যদি এই দুই ভিসা পাওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন হন, তাহলে তাকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় থেকে ১৯ লাখ টাকা জামানত হিসেবে দিতে হবে যা অনেকের জন্যই বাড়তি চাপ বিবেচিত হবে।

ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথমে ছিল সাতটি দেশ। কিন্তু মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সেই তালিকা কয়েকগুণ বাড়িয়ে ৩৮টি করেছে। নতুন দেশগুলোতে ভিসা বন্ড কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি চালু হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। এই বন্ড ব্যবস্থা আপাতত ১২ মাস মেয়াদি একটি পরীক্ষামূলক (পাইলট) কর্মসূচি, যা চালু হয় গত ২০ আগস্ট।

দুই ক্যাটাগরিতে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বন্ড বা জামানত নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের বিপুলসংখ্যক ভিসা দিয়ে থাকে। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

যারা ভিসা পাবেন তারা যেন নির্ধারিত সময়ের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। কেউ অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা দেশটির অভিবাসন আইন বা ভিসা বন্ডের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিকদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। আর ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়ই ঠিক করা হবে বন্ডের পরিমাণ কত হবে। এটি নির্ধারিত হবে তিন ধাপে। পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

কার কত পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবে ভিসা কর্মকর্তা। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি নির্ধারণ করবেন। আবার তিনি চাইলে কাউকে বন্ডের আওতার বাইরে রেখেই বি১ বা বি২ ভিসা দিতে পারেন।

একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক কামরুজ্জামান রনি বলেন, যখন ভিসা অফিসার নিশ্চিত হবে যে আপনাকে ভিসা দেবে, তখনই আপনাকে টাকা জমা দিতে বলবে। বিষয়টা এমন না যে আবেদন করার সময়ই আপনাকে টাকা দিতে হবে।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ৫ টি ইট ভাটায় ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশিরা মার্কিন ভিসা বন্ডের জন্য যেসব সমস্যায় পড়বেন

প্রকাশিত : ১০:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

‌‌‘‘ইচ্ছা ছিল আমার সমাবর্তনের সময় মা-বাবা উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু এখন সেটা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেল,’’ এভাবে বলছিলেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত এক পিএইচডি শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশের নাম ওঠায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি এই কথা বলেন।

ভিসা বন্ডের নিয়ম অনুযায়ী এখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বি১ বা বি২ ভিসা পেতে একেকজনকে গুনতে হবে পাঁচ থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, বাংলাদেশের কেউ যদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি১) এবং পর্যটন বা ভিজিট ভিসায় (বি২) আবেদন করেন এবং তারা যদি এই দুই ভিসা পাওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন হন, তাহলে তাকে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় থেকে ১৯ লাখ টাকা জামানত হিসেবে দিতে হবে যা অনেকের জন্যই বাড়তি চাপ বিবেচিত হবে।

ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথমে ছিল সাতটি দেশ। কিন্তু মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সেই তালিকা কয়েকগুণ বাড়িয়ে ৩৮টি করেছে। নতুন দেশগুলোতে ভিসা বন্ড কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি চালু হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। এই বন্ড ব্যবস্থা আপাতত ১২ মাস মেয়াদি একটি পরীক্ষামূলক (পাইলট) কর্মসূচি, যা চালু হয় গত ২০ আগস্ট।

দুই ক্যাটাগরিতে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বন্ড বা জামানত নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের বিপুলসংখ্যক ভিসা দিয়ে থাকে। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

যারা ভিসা পাবেন তারা যেন নির্ধারিত সময়ের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত। কেউ অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা দেশটির অভিবাসন আইন বা ভিসা বন্ডের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, এই ৩৮ দেশের নাগরিকদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য পাঁচ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। আর ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়ই ঠিক করা হবে বন্ডের পরিমাণ কত হবে। এটি নির্ধারিত হবে তিন ধাপে। পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।

কার কত পরিমাণ অর্থ দিতে হবে, তা নির্ধারণ করবে ভিসা কর্মকর্তা। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে তিনি এটি নির্ধারণ করবেন। আবার তিনি চাইলে কাউকে বন্ডের আওতার বাইরে রেখেই বি১ বা বি২ ভিসা দিতে পারেন।

একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক কামরুজ্জামান রনি বলেন, যখন ভিসা অফিসার নিশ্চিত হবে যে আপনাকে ভিসা দেবে, তখনই আপনাকে টাকা জমা দিতে বলবে। বিষয়টা এমন না যে আবেদন করার সময়ই আপনাকে টাকা দিতে হবে।