কুষ্টিয়ায় প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরির অভিযোগে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে আহত অবস্থায় মনিরুলকে দেখতে পায় স্বজনরা। পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনিরুল ইসলাম শহরের জিকে এলাকার বাসিন্দা ও আশকার মন্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি ট্রাকচালক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বলেন, হঠাৎ এক শব্দে আমি বাড়ি থেকে বের হই। এসময় কুকুরের আসা দেখে আমি বাড়িতে ঢুকে যাই। পরে আবার শব্দ হলে বাইরে গিয়ে দেখি আমার স্বামী দৌড়ে এসে রাস্তায় পরে গেল। চোরের অপবাদ দিয়ে আমার স্বামীকে সন্দেহ করে মেরে ফেলেছে। তাকে তারা ধরতে পারেনি। শুধু অভিযোগ করে আসছিল ও চাপ দিচ্ছিল চুরি যাওয়া জিনিস ফেরতের জন্য। আমার স্বামীকে রিপনরা মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

নিহতের বোন বিথী খাতুন জানান, গত ৩ দিন আগে একটা বাড়িতে চুরি হয়েছিল। চুরি হওয়ার পরে তারা নাকি আমার ভাইকে দেখেছিল। দেখে তাকে সন্দেহ করে। গতকাল সেই সন্ধ্যা থেকে আশপাশের লোকজন বলে যাচ্ছিল আমার ভাবিকে আপনার স্বামীকে ধরিয়ে দেন না হলে আজ মারা পড়বে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। সে জলজ্যন্ত একটা মানুষ সে আমাদের সাথে কথা বলল। আমাদের সাথে খাওয়া দাওয়া করলো। তারপর ভাই বাইরে গেলে একটা শব্দ হলো। শব্দ শুনে আমরা বাইরে গিয়ে দেখি আমার ভাই বাইরে পরে আছে। যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
প্রতিবেশী ইমরান খান জানান, চুরি হয়েছিল আমার বাড়ির সামনে। যার বাড়িতে চুরি হয়েছিল তাদের এক আত্মীয় মারা যাওয়ায় পরিবারের সবাই দেখতে গেছিল। আমি বাড়ি আসছিলাম দেখি আমার স্ত্রী গলির মুখে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে চুরি হয়েছে। আমার স্ত্রী আমাকে বলছে মনিরুল ভাই বাড়ির সামনে কি যেন করছে। আমি গিয়ে মনিরুল ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই কি করছেন? ভাই বলল আমি নেশা করছি। আমি সেখান থেকে তাকে চলে যেতে বলে আমার বাড়িতে চলে গেছি। সেই দিন রাত সাড়ে ১০টার সময় আমার স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে বলছে সেই বাড়িতে সব চুরি হয়ে গেছে। বাড়ির মালিকসহ আমরা মনিরুল ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে বললাম আপনি যদি মালপত্র নিয়ে থাকেন তাহলে দিয়ে দেন। তখন মনিরুল ভাই বলল আমি নেইনি আমি জানি না। পরে আমরা থানায় গিয়ে তার (মনিরুল) নামে জিডি করেছি ৩ দিন আগে। শুনছি তার পরের দিন আরেক বাড়িতে মনিরুল চুরি করতে গেছিল সেখানে লোকজন দেখেছে।
এ বিষয়ে, কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















