বৃষ্টি আর কাদার যন্ত্রণা উপেক্ষা করেই চলছে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। একদিকে সেমাই-চিনির মিষ্টি সুবাস, অন্যদিকে মাংস আর সালাদ সামগ্রীর চড়া দাম, সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। বৃষ্টির বাগড়ায় কিছুটা ভোগান্তি হলেও প্রিয়জনদের আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখতে চান না কেউ, তাই ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে সবার এখন একটাই লক্ষ্য- দ্রুত বাসায় ফেরা।
ঈদের আয়োজনে মিষ্টির পাশাপাশি ঝাল খাবারেরও থাকে সমান আধিপত্য। আর ঝাল পদের কথা বললেই অবধারিতভাবে চলে আসে মাংসের নাম। বরাবরের মতো এবারও বাজারে গরু ও মুরগির মাংসের কদর সবচেয়ে বেশি। তবে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় রাজধানীর বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির কেজি ঠেকেছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় এবং সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা দরে।

উত্তর মুগদায় জুমার নামাজ শেষে ছাতা মাথায় বাজার করতে এসেছেন রেহানা বেগম। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে খুব খারাপ অবস্থা, এখন কাদা মাড়িয়ে বাজার করতে হচ্ছে। গরুর মাংস নিব, মুরগি নিব; সঙ্গে সালাদ আইটেম ও কিছু সবজি কিনতে হবে। দুই-একটা দোকান ঘুরে মনে হলো দাম বেশি বলছে।
জলিল গোস্ত বিতানের মোহাম্মদ হানিফ বলেন, দুই দিন ধরে গরুর মাংস ৮০০ টাকা করে বিক্রি করছি। আজ চাঁদরাত। সন্ধ্যার পর ৮৫০ টাকা করে বিক্রি করব। আমরা তো কমেই বিক্রি করছি। পাশে গিয়ে দেখেন, ৮৫০ টাকা করে বিক্রি করছে।
মুরগি ব্যবসায়ী সোলেমান বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি না হলে সন্ধ্যার আগেই বিক্রি শেষ করে বাড়ি চলে যেতাম। ব্রয়লার মুরগি এখন ২২০ টাকা রাখছি।
কালবৈশাখীর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ থেমে থেমে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে দুপুর নাগাদ বৃষ্টি নামে। সেই বৃষ্টি থেমে থেমে চলে বিকেল পর্যন্ত। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন বাজারমুখী মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টি উপেক্ষা করেই অনেক ক্রেতা বাজারে এসেছেন। কেউ ছাতা মাথায়, আবার কেউ ছাতা ছাড়াই বাসার জন্য নিত্যপণ্য কিনছেন। আর এটি করতে হচ্ছে কাদা মাড়িয়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, কালবৈশাখীর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালও থেমে থেমে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে, যা আগামী রোববার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঈদের দিনও ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে অধিদপ্তর।
ঈদে সালাদ পণ্যের অন্য রকম কদর থাকে। চাহিদা বেশি থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। গত দুই দিনে বাজারে শসা, কাঁচা মরিচ, গাজর, টমেটো ও লেবুর দাম যা ছিল, তার চেয়ে কেজিপ্রতি বেড়ে গেছে ৫ থেকে ১০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সালাদ পণ্যের মধ্যে টমেটোর দাম রাখা হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা; অথচ গতকাল পর্যন্ত প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। এ ছাড়া গাজর প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর লেবুর হালি ৫০ টাকার নিচে মিলছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব পণ্যের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে এটি ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই বলে দাবি তাদের।
সাহাবুদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, শসা, গাজর ও লেবু সবকিছুরই দাম বেশি। কিন্তু কিছু করার নাই, এগুলো ছাড়া চলবেও না। বৃষ্টিতে খুব ঝামেলা হলো, শান্তিমতো বাজার করা গেল না। ছাতা নিয়ে আসছি, তবুও ভিজে গেছি। ছাতা ধরব, না বাজারের ব্যাগ?
বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে বরবটি ১২০, পটল ও ঢ্যাঁড়স ১০০, চিচিঙ্গা, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৭০-৮০, করলা ৮০, বেগুন ৬০-৭০ এবং লাউ ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কাঁচা আমের কেজি সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি আম কিনতে লাগছে ১৮০ টাকা। এর পরের অবস্থানে আছে সজনে ডাঁটা, যা কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুগদা ছোট বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রহমত মিয়া বলেন, সালাদ পণ্যের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য সবজিও কেজিতে ২-৫ টাকা বেড়েছে। চাহিদা বেশি, সেই তুলনায় পণ্য কম।
আরেক সবজি ব্যবসায়ী ইদ্রিস বলেন, অনেকে ভাবছে দোকান আবার কবে খোলে না খোলে, সেজন্য বেশি করে কিনছে। বৃষ্টির মধ্যে অনেকে বাজার করতে আসছে।
শেষ সময়ে ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ সেমাইয়ের দোকানে ক্রেতারা ভিড় করছেন। লাচ্ছা সেমাই, চিনি, গুঁড়া দুধ, নারকেল, কিশমিশ, বাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা, ঘি, সুগন্ধি চাল ও মসলাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ভালো বেচাকেনা দেখা গেছে। বাজারে লম্বা সাদা ও লাল সেমাই এবং খোলা ও প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে বেশি।
ঈদের দিনের আরেক প্রধান খাবার পোলাও। অতিথি আপ্যায়নে ধনী-গরিব সবার ঘরেই সেমাই-ফিরনির পাশাপাশি পোলাও চাই। তাই নানা রকমের সেমাইয়েরসঙ্গে পোলাওর চাল কিনতে মুদি দোকানগুলোতে ছুটছেন ক্রেতারা। আর যাদের কেনা শেষ, তারা ব্যাগ নিয়ে ছুটছেন বাসার দিকে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















