বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসন জুড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেন এক নীরব কিন্তু দৃঢ় ব্যস্ততা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে বসেছিল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে ধাপে ধাপে উঠে আসে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র—সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এখন প্রস্তুত। মোট ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শেষ। ভোটারদের যেন কষ্ট না হয়, তাই কেন্দ্রগামী রাস্তাঘাটও চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। আর ভোটের দিন দায়িত্বে থাকবেন যারা—সেই ১৫ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও ইতিমধ্যে সম্পন্ন।

এ সময় জানানো হয়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এরপরই কার্যকর হবে নির্বাচনি আচরণবিধির কঠোর বিধিনিষেধ।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সভায় দৃঢ় কণ্ঠে জানান, এবারের নির্বাচন হবে নজিরবিহীন নিরপেক্ষ—যা সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে ৩ জন পুলিশ সদস্য থাকবেন সার্বক্ষণিক। গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আরও ৩ জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন।
নিরাপত্তায় এবার যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির শক্ত হাত। ৭১ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে স্থাপন করা হয়েছে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’। ‘সুরক্ষা অ্যাপস’-এর মাধ্যমে সেই ফুটেজ সরাসরি তদারকি করা হবে। কোথাও কোনো গোলযোগ দেখা দিলে রিজার্ভ ফোর্স দ্রুত সেখানে পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করবে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা তিনদিন জেলায় কোনো অনুমোদনহীন মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না। নির্বাচনের দিন জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য সব যানবাহনের জন্য পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















