ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোজায় বেনাপোলে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্রেতাদের ক্ষোভ : মাঠে ভ্রাম্যমান আদালত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৩২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে
বেনাপোল প্রতিনিধি: রমজান মাস শুরুর পর থেকে যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ ইফতারে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের দাম। বেড়েছে মাছ, মুরগী ও মাংসের দামও। এছাড়া শসা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬০টাকায়। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে দ্রব্যমুল্যের দাম ঠিক রাখতে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে অনেক দোকান মালিককে। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্রেতারা আশা করছেন, এই পবিত্র মাসে নিত্যপণ্যের দাম থাকবে সহনীয়।
জানা গেছে, রমজান মাস শুরুর পর থেকে ইফতার ও সেহরির বাজার করতে এসে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, চিনি ও বিভিন্ন সবজির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্য না থাকায় ক্রেতারা সঠিক দাম যাচাই করতে পারছেন না। ফলে একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দোকানে ভিন্ন দাম আদায় করা হচ্ছে।
শাক-সবজি, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। শসা ৫০ টাকার জায়গায় বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে। লেবু এক হালি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ৩০ টাকার বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪৫ টাকার কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। দেশি মুরগী ৬০০ টাকা, সোনালী মুরগি-৩০০ টাকা, বয়লার মুরগি-২২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও খাশির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দ্রব্যমুল্যের দাম ঠিক রাখতে গত শনিবার বিকেল ও রবিবার সকালে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে অনেক দোকান মালিককে। অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
ক্রেতা রাসেল ইসলাম বলেন, পবিত্র রমজান মাস শুর হওয়ার পর দুঃখজনক হলেও সত্য রোজার বাজার ও ইফতারি সংক্রান্ত সকল জিনিসের দাম প্রচুর বেশি। ক্ষিরার দাম ১০০ টাকার উপরে, শসা ১৪০ টাকা। আগে লেবু কিনতাম হালি ২০ টাকা এখন একটার দাম ২০ টাকা। যে কলা ৪৫ টাকা করে কিনেছি, সেই কলা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে যেমন পাচ্ছে তেমন ভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের দুভোর্গের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের দাম সীমিত থাকবে। কিন্তু সীমিত দুরে থাক কয়েকগুর বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বেগুন রমজানের আগে ছিল ৩০ টাকা এখন ১০০ টাকা কেজি, আলু আগে ছিল ৭ কেজি ১০০ টাকা এখন টাকা ঠিক রেখে ৬ কেজি করে দিয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচাঝাল, আদাসহ সব মশলার দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। গরীব ও মধ্যবর্তী মানুষ কি ভাবে বাঁচবে।
সবজি বিক্রেতা সেলিম রহমান বলেন, রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুণের চাহিদা বেশি থাকায় কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
কলা বিক্রেতা সবুর হোসেন বলেন, যে কলা আগে কিনেছি ২৫/৩০ টাকা সে কলা এখন কিনছি ৪৫/৫০ টাকায়। আর ৪৫ টাকায় কেনা কলা এখন কিনতে হচ্ছে ৮০/৮৫ টাকায়। চাষীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের করার কি আছে। তারা দাম বেশি করে বাড়ালেও আমরা মাত্র ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছি।
বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আবু তালেব বলেন, বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আমরা সাথে ছিলাম। বাজারে অনেক অনিয়ম দেখা গেছে। দ্রুত ব্যবসায়ীদের সাথে বসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার চেস্টা করবো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শার্শা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম বলেন, শার্শা উপজেলায় দ্রব্যমূল্য সাধারন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে। মুদি, মাছ ও মাংসের দোকান সবখানে সতর্ক করা হয়েছে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক মুদি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের সাথে বাজার কমিটি পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ছিল। রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ডে তিন স্তরে পর্যবেক্ষণ ,দুর্নীতির ঠাঁই নেই: ডা. জাহিদ

রোজায় বেনাপোলে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ক্রেতাদের ক্ষোভ : মাঠে ভ্রাম্যমান আদালত

প্রকাশিত : ০৯:৩২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বেনাপোল প্রতিনিধি: রমজান মাস শুরুর পর থেকে যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ ইফতারে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যের দাম। বেড়েছে মাছ, মুরগী ও মাংসের দামও। এছাড়া শসা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬০টাকায়। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে দ্রব্যমুল্যের দাম ঠিক রাখতে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে অনেক দোকান মালিককে। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ক্রেতারা আশা করছেন, এই পবিত্র মাসে নিত্যপণ্যের দাম থাকবে সহনীয়।
জানা গেছে, রমজান মাস শুরুর পর থেকে ইফতার ও সেহরির বাজার করতে এসে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর, চিনি ও বিভিন্ন সবজির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাজার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেন, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের গায়ে নির্ধারিত মূল্য না থাকায় ক্রেতারা সঠিক দাম যাচাই করতে পারছেন না। ফলে একই পণ্যের ভিন্ন ভিন্ন দোকানে ভিন্ন দাম আদায় করা হচ্ছে।
শাক-সবজি, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। শসা ৫০ টাকার জায়গায় বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে। লেবু এক হালি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ৩০ টাকার বেগুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪৫ টাকার কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। দেশি মুরগী ৬০০ টাকা, সোনালী মুরগি-৩০০ টাকা, বয়লার মুরগি-২২০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ ও খাশির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দ্রব্যমুল্যের দাম ঠিক রাখতে গত শনিবার বিকেল ও রবিবার সকালে বেনাপোল বাজারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সতর্ক করা হয়েছে অনেক দোকান মালিককে। অভিযানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
ক্রেতা রাসেল ইসলাম বলেন, পবিত্র রমজান মাস শুর হওয়ার পর দুঃখজনক হলেও সত্য রোজার বাজার ও ইফতারি সংক্রান্ত সকল জিনিসের দাম প্রচুর বেশি। ক্ষিরার দাম ১০০ টাকার উপরে, শসা ১৪০ টাকা। আগে লেবু কিনতাম হালি ২০ টাকা এখন একটার দাম ২০ টাকা। যে কলা ৪৫ টাকা করে কিনেছি, সেই কলা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যে যেমন পাচ্ছে তেমন ভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের দুভোর্গের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম রমজান মাস উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের দাম সীমিত থাকবে। কিন্তু সীমিত দুরে থাক কয়েকগুর বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বেগুন রমজানের আগে ছিল ৩০ টাকা এখন ১০০ টাকা কেজি, আলু আগে ছিল ৭ কেজি ১০০ টাকা এখন টাকা ঠিক রেখে ৬ কেজি করে দিয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচাঝাল, আদাসহ সব মশলার দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। গরীব ও মধ্যবর্তী মানুষ কি ভাবে বাঁচবে।
সবজি বিক্রেতা সেলিম রহমান বলেন, রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুণের চাহিদা বেশি থাকায় কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
কলা বিক্রেতা সবুর হোসেন বলেন, যে কলা আগে কিনেছি ২৫/৩০ টাকা সে কলা এখন কিনছি ৪৫/৫০ টাকায়। আর ৪৫ টাকায় কেনা কলা এখন কিনতে হচ্ছে ৮০/৮৫ টাকায়। চাষীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের করার কি আছে। তারা দাম বেশি করে বাড়ালেও আমরা মাত্র ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছি।
বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আবু তালেব বলেন, বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আমরা সাথে ছিলাম। বাজারে অনেক অনিয়ম দেখা গেছে। দ্রুত ব্যবসায়ীদের সাথে বসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার চেস্টা করবো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শার্শা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম বলেন, শার্শা উপজেলায় দ্রব্যমূল্য সাধারন মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে। মুদি, মাছ ও মাংসের দোকান সবখানে সতর্ক করা হয়েছে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক মুদি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের সাথে বাজার কমিটি পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ছিল। রমজান মাসজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।