ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

মাদারীপুরে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১১ শিশু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:২৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে বর্তমানে আরও ১১ জন শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ প্রথমবারের মতো হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশু ভর্তি হয়। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে একই উপসর্গ নিয়ে আরও ১৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে গত সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে তিন মাস ১৫ দিন বয়সী আদিবা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহত আদিবা মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটি ঢাকা থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ প্রয়োজন হলেও তা না থাকায় সোমবার দুপুরে তাকে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে আনা হয়। পরে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ১৪ জন শিশুর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৩ জনের মধ্যে একজন মারা গেছে এবং বর্তমানে ১১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জহিরুল ইসলাম খান বলেন,
“বর্তমানে বিশ্বজুড়েই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এ রোগ অত্যন্ত সংক্রামক হলেও সচেতন থাকলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হামের বিস্তার রোধে শিশু ওয়ার্ডের পাশে একটি পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে তাদের অভিভাবকরা উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছেন।
এক শিশুর মা রেহেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন,
“হাসপাতালে তেমন উন্নত চিকিৎসা নেই। নার্সরা মাঝেমধ্যে এলেও ডাক্তারদের সবসময় পাওয়া যায় না। তিন দিন ধরে বাচ্চাকে ভর্তি রেখেছি, কিন্তু উন্নতি হচ্ছে না। খুব চিন্তায় আছি।”
এ বিষয়ে আরএমও অখিল সরকার বলেন,
“হামের সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছি। তবে এখানে শিশুদের জন্য কোনো পেডিয়াট্রিক আইসিইউ নেই। জটিল রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১১ শিশু

প্রকাশিত : ০৩:২৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে বর্তমানে আরও ১১ জন শিশু আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ প্রথমবারের মতো হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশু ভর্তি হয়। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে একই উপসর্গ নিয়ে আরও ১৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে গত সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে তিন মাস ১৫ দিন বয়সী আদিবা নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহত আদিবা মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটি ঢাকা থেকে হামে আক্রান্ত হয়ে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ প্রয়োজন হলেও তা না থাকায় সোমবার দুপুরে তাকে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে আনা হয়। পরে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ১৪ জন শিশুর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৩ জনের মধ্যে একজন মারা গেছে এবং বর্তমানে ১১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জহিরুল ইসলাম খান বলেন,
“বর্তমানে বিশ্বজুড়েই হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। এ রোগ অত্যন্ত সংক্রামক হলেও সচেতন থাকলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত আলাদা রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হামের বিস্তার রোধে শিশু ওয়ার্ডের পাশে একটি পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে তাদের অভিভাবকরা উদ্বেগে সময় কাটাচ্ছেন।
এক শিশুর মা রেহেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন,
“হাসপাতালে তেমন উন্নত চিকিৎসা নেই। নার্সরা মাঝেমধ্যে এলেও ডাক্তারদের সবসময় পাওয়া যায় না। তিন দিন ধরে বাচ্চাকে ভর্তি রেখেছি, কিন্তু উন্নতি হচ্ছে না। খুব চিন্তায় আছি।”
এ বিষয়ে আরএমও অখিল সরকার বলেন,
“হামের সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছি। তবে এখানে শিশুদের জন্য কোনো পেডিয়াট্রিক আইসিইউ নেই। জটিল রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।