ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মোদিকে ‘কিলার’ বললেন ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০২:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

ফ্রান্সের এভিয়ানে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘‘একজন কিলার এবং কঠিন ব্যবসায়ী’’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, ভারতীয় এই নেতার প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।

বুধবার জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে মোদিকে সবচেয়ে ‘সুন্দর পুরুষ’’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি ‘‘একজন কিলারের মতোই কঠিন’’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।

দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘তিনি অত্যন্ত কঠিন একজন আলোচক…আপনারা এই মানুষটির দিকে তাকান। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর একজন মানুষ। তাকে দেখতে এতটাই চমৎকার লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কিলারের মতোই কঠিন… তবে তাকে দেখতে খুব ভালো লাগে। তাই তিনি আপনাদের চমকে দেবেন। এই ধরনের মানুষ খুব কমই আছেন।’’

তিনি বলেন, যতদিন আমি প্রেসিডেন্ট আছি, হোয়াইট হাউজে তারা (ভারত) একজন দারুণ বন্ধু পাবে… এখানকার সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের প্রচণ্ড শ্রদ্ধা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘‘নম্র, তবে কঠিন’’ হিসেবেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মানুষ বলে তিনি খুব ভালো একজন মানুষ। আমি বলি তিনি অত্যন্ত কঠিন। তিনি একজন কঠিন ব্যবসায়ী এবং তিনি ভারতের জনগণকে ভালোবাসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। স্টেডিয়ামটি পূর্ণ ছিল… ভবিষ্যতে কোনও এক সময় আমরা ভারতে যাব।

মোদির সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, কোনও দেশ ভারতকে আক্রমণ করলে তার দেশ পাশে দাঁড়াবে। তবে তিনি একটি শর্ত দিয়েছেন, তখন কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদিকেই নেতৃত্বে থাকতে হবে।

পশ্চিম এশিয়ায় ভারত কোনও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন কি না—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি প্রত্যাশা করি। আমি মনে করি ভারত সব কিছুতেই বড় ভূমিকা পালন করে। যতদিন তিনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) নেতৃত্বে আছেন, ভারত বড় ভূমিকা পালন করে যাবে।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমাদের খুব ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি করছি… যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা সময় পার করছে। আমাদের এখানে ১৯.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আসছে এবং আমরা কারখানা তৈরি করছি, আমরা সবকিছুই তৈরি করছি।

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কিছু তৈরি করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। তাই আমরা সেই কাজের প্রশংসা করি। তবে আমি শুধু বলতে চাই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার বন্ধু এবং আমাদের মধ্যে সবসময়ই চমৎকার সম্পর্ক ছিল। আর আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন গতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি নতুন আশা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এটি এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে। আপনি এবং আমি একমত যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত শুরু থেকেই নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং এই বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

মোদিকে ‘কিলার’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত : ০২:৫৬:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের এভিয়ানে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘‘একজন কিলার এবং কঠিন ব্যবসায়ী’’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, ভারতীয় এই নেতার প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।

বুধবার জি-৭ এর সম্মেলনের ফাঁকে মোদিকে সবচেয়ে ‘সুন্দর পুরুষ’’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি ‘‘একজন কিলারের মতোই কঠিন’’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।

দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘তিনি অত্যন্ত কঠিন একজন আলোচক…আপনারা এই মানুষটির দিকে তাকান। আমি আপনাদের একটি শিক্ষা দিই। তিনি দেখতে সবচেয়ে সুন্দর একজন মানুষ। তাকে দেখতে এতটাই চমৎকার লাগে, যেন একজন দেবদূত। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কিলারের মতোই কঠিন… তবে তাকে দেখতে খুব ভালো লাগে। তাই তিনি আপনাদের চমকে দেবেন। এই ধরনের মানুষ খুব কমই আছেন।’’

তিনি বলেন, যতদিন আমি প্রেসিডেন্ট আছি, হোয়াইট হাউজে তারা (ভারত) একজন দারুণ বন্ধু পাবে… এখানকার সবাই ভারতকে ভালোবাসে এবং এই মানুষটির (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) প্রতি তাদের প্রচণ্ড শ্রদ্ধা রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘‘নম্র, তবে কঠিন’’ হিসেবেও আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মানুষ বলে তিনি খুব ভালো একজন মানুষ। আমি বলি তিনি অত্যন্ত কঠিন। তিনি একজন কঠিন ব্যবসায়ী এবং তিনি ভারতের জনগণকে ভালোবাসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। হিউস্টনে আমাদের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। স্টেডিয়ামটি পূর্ণ ছিল… ভবিষ্যতে কোনও এক সময় আমরা ভারতে যাব।

মোদির সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, কোনও দেশ ভারতকে আক্রমণ করলে তার দেশ পাশে দাঁড়াবে। তবে তিনি একটি শর্ত দিয়েছেন, তখন কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদিকেই নেতৃত্বে থাকতে হবে।

পশ্চিম এশিয়ায় ভারত কোনও ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন কি না—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি প্রত্যাশা করি। আমি মনে করি ভারত সব কিছুতেই বড় ভূমিকা পালন করে। যতদিন তিনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) নেতৃত্বে আছেন, ভারত বড় ভূমিকা পালন করে যাবে।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমাদের খুব ভালো কিছু কথাবার্তা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য চুক্তি করছি… যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অনেক কিছুই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা সময় পার করছে। আমাদের এখানে ১৯.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি আসছে এবং আমরা কারখানা তৈরি করছি, আমরা সবকিছুই তৈরি করছি।

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কিছু তৈরি করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। তাই আমরা সেই কাজের প্রশংসা করি। তবে আমি শুধু বলতে চাই, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার বন্ধু এবং আমাদের মধ্যে সবসময়ই চমৎকার সম্পর্ক ছিল। আর আপনার সঙ্গে থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন গতিশীলতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি নতুন আশা পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এটি এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে। আপনি এবং আমি একমত যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত শুরু থেকেই নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং এই বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।