মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম শশিকর চৌমুহনী বাজার সংলগ্ন সংযোগ খালের ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন অন্তত ১৫ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। একসময় সেখানে একটি সেতু থাকলেও ২০২১ সালের বন্যায় সেটি ভেঙে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে স্থানীয়দের নিজ উদ্যোগে নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ।
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে শত শত শিক্ষার্থী। একইভাবে কৃষক, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদেরও বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম শশিকর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১০৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শশিকর উচ্চ বিদ্যালয়, শশিকর কলেজ, হরলাল কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ছয়টি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে যেতে এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ এ পথে চলাচল করেন। পাশাপাশি আশপাশের অন্তত ১৫ গ্রামের বাসিন্দারাও এই পথ ব্যবহার করেন।
বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁশের সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি কৃষকদের কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতেও বাড়তি ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সময় আশ্বাস মিললেও কাজের অগ্রগতি না থাকায় হতাশ এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, “সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেই ই-টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হলে ১৫ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















