ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: চার দিন পর জীবিত উদ্ধার জেলে আল-আমিন, এখনও নিখোঁজ ৫

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
বরিশাল প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলারডুবির চার দিন পর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জেলে আল-আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণে গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের জেলেরা। বর্তমানে তিনি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার সঙ্গে নিখোঁজ থাকা আরও পাঁচ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরে ভাসমান অবস্থায় আল-আমিনকে উদ্ধার করা হয়। তিনি গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশনের দুলাল মাঝি মোবাইল ফোনে আল-আমিনের পরিবারের সদস্যদের তার উদ্ধারের খবর দেন। পরে স্বজনরা স্পিডবোটে চরফ্যাশনে গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল-আমিন জানান, গত রবিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের মাছধরা ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলের মধ্যে তিনজন ট্রলারের ভেতর আটকে পড়েন। বাকি আটজন সাগরে ভেসে ওঠেন।
তিনি বলেন, প্রথমে তিনি আক্কাস ও সাগর নামে দুই জেলের সঙ্গে ট্রলার আঁকড়ে ধরে ছিলেন। পরে তীরে পৌঁছানোর আশায় সবাই সাঁতরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে তারা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে একটি তেলের খালি পাত্র (ড্রাম) ভাসতে দেখে সেটি আঁকড়ে ধরে টানা কয়েকদিন সাগরে ভেসে ছিলেন। বুধবার বিকেলে দুলাল মাঝির ট্রলারের জেলেরা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশনে নিয়ে যান।
গজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলিমুল্লা খান বলেন, আল-আমিন এখনো শারীরিকভাবে দুর্বল। সুস্থ হলে দুর্ঘটনা ও অন্য জেলেদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আল-আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ অন্য পাঁচ জেলেও জীবিত থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, আল-আমিনের চিকিৎসার তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে গলাচিপার ১১ জেলেকে বহনকারী একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ আল-আমিনকে উদ্ধারের পরও এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন: পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের হারুন হাওলাদার, একই এলাকার এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের ফোরকান ও সায়েম এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আকাশ।
জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে ‘মধুবালা’ তরমুজ প্রদর্শনীর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: চার দিন পর জীবিত উদ্ধার জেলে আল-আমিন, এখনও নিখোঁজ ৫

প্রকাশিত : ১২:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
বরিশাল প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলারডুবির চার দিন পর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জেলে আল-আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণে গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন অন্য একটি মাছধরা ট্রলারের জেলেরা। বর্তমানে তিনি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার সঙ্গে নিখোঁজ থাকা আরও পাঁচ জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে ভোলার ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরে ভাসমান অবস্থায় আল-আমিনকে উদ্ধার করা হয়। তিনি গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।
গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে চরফ্যাশনের দুলাল মাঝি মোবাইল ফোনে আল-আমিনের পরিবারের সদস্যদের তার উদ্ধারের খবর দেন। পরে স্বজনরা স্পিডবোটে চরফ্যাশনে গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল-আমিন জানান, গত রবিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের মাছধরা ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১১ জন জেলের মধ্যে তিনজন ট্রলারের ভেতর আটকে পড়েন। বাকি আটজন সাগরে ভেসে ওঠেন।
তিনি বলেন, প্রথমে তিনি আক্কাস ও সাগর নামে দুই জেলের সঙ্গে ট্রলার আঁকড়ে ধরে ছিলেন। পরে তীরে পৌঁছানোর আশায় সবাই সাঁতরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে তারা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে একটি তেলের খালি পাত্র (ড্রাম) ভাসতে দেখে সেটি আঁকড়ে ধরে টানা কয়েকদিন সাগরে ভেসে ছিলেন। বুধবার বিকেলে দুলাল মাঝির ট্রলারের জেলেরা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশনে নিয়ে যান।
গজালিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলিমুল্লা খান বলেন, আল-আমিন এখনো শারীরিকভাবে দুর্বল। সুস্থ হলে দুর্ঘটনা ও অন্য জেলেদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, আল-আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ অন্য পাঁচ জেলেও জীবিত থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, আল-আমিনের চিকিৎসার তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে গলাচিপার ১১ জেলেকে বহনকারী একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। পরদিন পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ আল-আমিনকে উদ্ধারের পরও এখনো পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন: পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি গ্রামের হারুন হাওলাদার, একই এলাকার এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের ফোরকান ও সায়েম এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের আকাশ।