নিজস্ব প্রতিবেদক: গণিতভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় গণিত কার্নিভাল–২০২৬। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও অভিভাবকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে কার্নিভালটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরেফিন কাউসার। এছাড়া বিশেষ অতিথিবৃন্দ, বিশিষ্ট কীনোট বক্তা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, জাতীয় গণিত কার্নিভাল শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি মেধা, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা, গবেষণার মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ডেটা সায়েন্স ও সাইবার নিরাপত্তাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গণিতের অপরিহার্য ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. আরেফিন কাউছার বলেন, “বিজ্ঞান আমাদের প্রশ্ন করতে শেখায়, কিন্তু সেই প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর খুঁজে পাওয়ার পথ দেখায় গণিত।” তিনি শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী মন নিয়ে প্রশ্ন করতে, গবেষণামুখী চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে এবং কঠিন সমস্যার সমাধানে যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণিত কেবল সূত্র বা হিসাবের বিষয় নয়; বরং এটি যৌক্তিক চিন্তা, সমস্যা বিশ্লেষণ, তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম ভিত্তি। বর্তমান বিশ্বের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতিটি ধাপেই গণিতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কঠিন সমস্যাকে কখনো ভয় পাওয়া উচিত নয়। অধ্যবসায়, ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব। প্রতিটি ভুল নতুন শিক্ষা দেয় এবং প্রতিটি ব্যর্থতা ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।
বক্তারা আরও বলেন, গণিত অলিম্পিয়াড, পোস্টার উপস্থাপনা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চিন্তা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং আত্মবিশ্বাস বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরেফিন কাউছার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান গবেষণাগারে, গবেষণার ফল শিল্পে এবং সেই উদ্ভাবন দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগবে। জাতীয় গণিত কার্নিভাল সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের গবেষক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকেরা উঠে আসবেন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবেন।
অনুষ্ঠানের শেষে ডুয়েটের গণিত বিভাগ, আয়োজক কমিটি, শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, বিচারকমণ্ডলী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, “গণিত আমাদের শুধু হিসাব করতে শেখায় না; সত্যকে যুক্তির আলোয় অনুসন্ধান করতে শেখায়।” তিনি গণিতকে চিন্তার শক্তি, গবেষণাকে অগ্রগতির পথ এবং উদ্ভাবনকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিচয় হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















