সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে একের পর এক উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ এনে দেশটির সঙ্গে আকস্মিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার সরকার এই ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে সম্পর্ক ছিন্নের এই সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ প্রকাশ করেনি দেশটি।
আলজেরিয়ার ওই ঘোষণার পরপরই আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক কোনও ধাঁধা কিংবা সঙ্কেত সমাধানের বিষয় নয়, বরং তা যৌক্তিকতা, যোগাযোগ এবং স্বার্থের স্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন দেখা যায়। আলজেরীয় গণমাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক কোন্দল উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর সহ্য করার মতো নয় এবং দেশটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার শেষ চেষ্টাও করে ফেলেছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে গারগাশ সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি বা তার মন্তব্যকে আলজেরিয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেননি। তিনি বলেছেন, সফল কূটনীতি মূলত স্পষ্ট অবস্থান তৈরি এবং স্বার্থ ও মতপার্থক্যগুলোর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশ ছাড়তে তাকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আব্দেল মাজিদ তাবুন বলেছিলেন, একটি দেশ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় সব দেশের সঙ্গেই আলজেরিয়ার উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে; যা ছিল আমিরাতের প্রতি এক পরোক্ষ ইঙ্গিত।
সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে নাম না উল্লেখ করা ওই দেশটিকে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত করেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত একটি বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে আলজেরিয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















