কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে চরম কষ্টে দৈনন্দিন জীবন-যাপন করতে হচ্ছে কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরের এলাকাবাসীর। ঘরবাড়ি, বসতভিটা, আবাদি জমির পর এবার মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা, কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদী ভাঙগনের হুমকিতে পড়েছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জগমনের চরের বাসিন্দারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরের মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। এতে অংশ নেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। মানববন্ধনে নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা, কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নদীভাঙগনের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে মুখে পড়েছে জগমনের চর এলাকাটি। এর ফলে বিস্তীর্ণ জগমনের চরের ফসলি জমি, বসতভিটা, খেলার মাঠসহ প্রায় ৪০-৫০ টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একসময়ে জনবসতিপূর্ণ চরটি বর্তমানে নদীতে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই চরের শেষ অস্তিত্বটুকুও শেষ হয়ে যাবে। শেষ হয়ে যাবে চরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো। মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা, কবরস্থান ইত্যাদি এসব স্থাপনা হারালে জগমনের চরে মানুষদের জীবনযাত্রা কঠিন বিপর্যয়ে পরিণত হবে। লেখাপড়া, ধর্মীয় ইবাদত ও মানুষের শেষ আশ্রয়স্থান কবর নিয়েও পড়তে হবে আশঙ্কায়।
স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, প্রতিবছরই নদী ভাঙনের ঘরবাড়ি জমি হারাতে হয় আমাদের। নতুন করে ঘর বাঁধি কিন্তু নদী সেই ঘরে থাকতে দেয় না। স্থীয় বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এই চর রক্ষা নরা সম্ভব হবে না।
আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, বর্তমানে আগামীদিনের ভবিষ্যৎ আমাদের সন্তানদের নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় আছি। নদীর যে পরিমাণ ভাঙন চলছে তাতে যদি বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে যায় তাহলে শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা চাই দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হউক।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখেমুখেও ছিল আতঙ্ক ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার স্পষ্ট ছাপ। নদীভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। স্থানীয়রা এতোটায় আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, আজ যে বাড়িটি আছে তা আগামী বর্ষায় থাকবে কি না এ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকাকে টেকসইভাবে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরও বলেন, আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয়। আর কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীর পানিতে হারিয়ে না যায়। এ জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















