ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধি: ঐতিহ্যবাহি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ফসলের মাঠে চোখ মেললেই এখন দেখা মেলে চিরচেনা সবুজের সমারোহ। তবে এর মাঝেই আখাউড়া উপজেলার কোনো কোনো মাঠে হঠাৎ নজর কাড়ছে ভিন্নধর্মী এক দৃশ্য—সবুজ ধানের সমুদ্রের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভিন্ন রঙা কালচে বা বেগুনি রঙের ধানের ছড়া। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিদেশি জাতের এই ‘ব্ল্যাক রাইস’।
উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের বীরচন্দ্রপুর এলাকায় আবদুল্লাহপুরের কৃষক মো: সায়মন মোল্লা এবার ২ বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। ইউটিউবে দেখে আগ্রহী হয়ে তিনি প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বীজ কিনেছিলেন। এখন পুরো জমিতে শীষ এসেছে এবং ফসলের অবস্থা খুবই ভালো।
কৃষকেরা বলেন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে কালো চালের কদর দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ চালের চেয়ে পুষ্টিগুণ বহুগুণ বেশি থাকায় বাজারে এই চালের চাহিদাও বেশ ভালো। বর্তমানে জাত ও মানভেদে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কালো চাল ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়ে থাকে।
আখাউড়ার উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন ব্ল্যাক রাইসের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
সাধারণ চালের তুলনায় ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো চালে পুষ্টির মাত্রা ও ঔষধি গুণ অনেক বেশি থাকায় একে সুপারফুড বলা হয়ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি দারুণ কার্যকর।
এছাড়া এতে সাধারণ চালের তুলনায় আমিষ, আয়রন, ভিটামিন, জিঙ্ক ও প্রয়োজনীয় মিনারেল অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।
সাধারণ ধানের চেয়ে এর পাতার রঙ গাঢ় বেগুনি থেকে কালচে হওয়ায় দূর থেকেই ক্ষেতের এই বৈচিত্র্য সহজেই সবার নজর কাড়ে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুষ্টিগুণে ভরপুর এই চালের চাহিদা দিন দিন দেশের বাজারে বাড়ছে। সাধারণ চালের তুলনায় এতে পুষ্টির মাত্রা অনেক বেশি থাকায় চাষিরাও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রচলিত ধান চাষের পাশাপাশি নতুন ও লাভজনক জাতের ফসল হিসেবে এই কালো ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন অনেকে। এ ধরনের ব্যতিক্রমী চাষাবাদ এলাকার কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে এবং অন্য কৃষকদেরও এমন লাভজনক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলে।
আখাউড়ার এই পরীক্ষামূলক চাষ সফল হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কৃষকরা আর্থিকভাবেও দারুণ লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















