ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

টিকাদানে শাটডাউনের হুমকি স্বাস্থ্যকর্মীদের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০১:০৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পোর্টাররা। এই চার ধরনের মাঠকর্মীরা সবাই এই মুহূর্তে আছেন বকেয়া বেতন, পদোন্নতি জটিলতা ও চাকরি নিয়ে নানা অনিশ্চয়তায়। তারা সরকারের কাছে নানা দাবি জানিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। কিন্তু সুরাহা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তারা। তেমনটা হলে সারা দেশের টিকাদান কার্যক্রম থেমে যাবে।

দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা স্বাস্থ্য বিভাগের ‘পোর্টার’দের ৯ মাস ধরে বেতন বন্ধ। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরা। তারা অনেক দিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। বারবার আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত সমাধান না আসায় সবার মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তারা সবাই মিলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না তারা। এতে চলমান হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে দেশের যে কয়েকটি প্রকল্প দেশি-বিদেশি সুনাম অর্জন করেছে, তার মধ্যে ইপিআইয়ের টিকাদান কর্মসূচি অন্যতম। আর এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন তারাই। এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও তাদের বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে বিগত সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বারবার অনীহা দেখিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যান্য সেক্টরে তাদের চেয়ে নিচের পদে যোগদানকারীরাও একাধিকবার পদোন্নতি পেয়ে দুই-তিন গ্রেড উপরে উঠে গেছে।

গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে আসেন বান্দরবানের পোর্টার সমীর চক্রবর্তী। তিনি সেখানকার লামা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ৩টি হাম রোগীর নমুনা জমা দিতে এসেছেন। ঢাকা পোস্টকে এই প্রান্তিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই কাঁধে আটটি টিকার বাক্স নিয়ে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে টিকা সরবারাহ করি। কখনো সাইকেল, কখনো নৌকায়, কখনো পায়ে হেঁটে টিকা কেন্দ্রে যেতে হয়। যত দুর্যোগই থাকুক না কেন আমাদের টিকা সরবারাহের কাজ করতেই হয়।

তিনি বলেন, আমরা প্রতি মাসে ৩০ দিন কাজ করি, টাকা পাই ২২ দিনের। তার মধ্যেও নয় মাসের টাকা বাকি। আমার বয়স ৪৪ বছর, এখনো বিয়ে করতে পারিনি। একটা থাকার ঘর পর্যন্ত নেই। কোনোমতে দিন পার করছি। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু আমাদের পোড়া কপাল, সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করে। এখন আমাদের দাবি একটাই, সরকার আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দিক এবং আমাদের চাকরিটা স্থায়ী করে দিক।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী ও ঢাকা বিভাগ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন-এর সভাপতি শাহাদুল ইসলাম রিপন বলেন, আমাদের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছি। সরকার থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে আমাদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখায় আছে। দেশে কোনো দুর্যোগ এলে আমাদের সাথে বসে সরকার, অন্য সময় ভুলে যায়। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ না করে, তাহলে বিগত সময়ের চেয়েও আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, সরকারের উপর মহল থেকে চাওয়ার পরও একটি নতুন পোস্ট তৈরি করতে কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগে। আর যদি স্বাভাবিকভাবে আগায়, তাহলে কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। সরকার চাইল আর নতুন পোস্ট বানিয়ে পদোন্নতি কিংবা নিয়োগ দিয়ে দিলো- সেটা কখনোই সম্ভব নয়। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তাই স্বাস্থ্য সহকারী ও পোর্টারদের দাবি পূরণে সময় লাগবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাফিক গুলশান ডিভিশনের উদ্যোগে ‌‌‘প্লাস্টিক হেলমেট ভাঙা কর্মসূচি’

টিকাদানে শাটডাউনের হুমকি স্বাস্থ্যকর্মীদের

প্রকাশিত : ০১:০৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পোর্টাররা। এই চার ধরনের মাঠকর্মীরা সবাই এই মুহূর্তে আছেন বকেয়া বেতন, পদোন্নতি জটিলতা ও চাকরি নিয়ে নানা অনিশ্চয়তায়। তারা সরকারের কাছে নানা দাবি জানিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। কিন্তু সুরাহা হচ্ছে না। এ অবস্থায় বড় ধরনের আন্দোলন কর্মসূচিতে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তারা। তেমনটা হলে সারা দেশের টিকাদান কার্যক্রম থেমে যাবে।

দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা স্বাস্থ্য বিভাগের ‘পোর্টার’দের ৯ মাস ধরে বেতন বন্ধ। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য সহকারী, পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরা। তারা অনেক দিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। বারবার আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত সমাধান না আসায় সবার মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তারা সবাই মিলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না তারা। এতে চলমান হামের বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে দেশের যে কয়েকটি প্রকল্প দেশি-বিদেশি সুনাম অর্জন করেছে, তার মধ্যে ইপিআইয়ের টিকাদান কর্মসূচি অন্যতম। আর এই কর্মসূচি সফল করতে মাঠপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন তারাই। এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও তাদের বারবার বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে বিগত সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বারবার অনীহা দেখিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাদের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যান্য সেক্টরে তাদের চেয়ে নিচের পদে যোগদানকারীরাও একাধিকবার পদোন্নতি পেয়ে দুই-তিন গ্রেড উপরে উঠে গেছে।

গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে আসেন বান্দরবানের পোর্টার সমীর চক্রবর্তী। তিনি সেখানকার লামা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ৩টি হাম রোগীর নমুনা জমা দিতে এসেছেন। ঢাকা পোস্টকে এই প্রান্তিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুই কাঁধে আটটি টিকার বাক্স নিয়ে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে টিকা সরবারাহ করি। কখনো সাইকেল, কখনো নৌকায়, কখনো পায়ে হেঁটে টিকা কেন্দ্রে যেতে হয়। যত দুর্যোগই থাকুক না কেন আমাদের টিকা সরবারাহের কাজ করতেই হয়।

তিনি বলেন, আমরা প্রতি মাসে ৩০ দিন কাজ করি, টাকা পাই ২২ দিনের। তার মধ্যেও নয় মাসের টাকা বাকি। আমার বয়স ৪৪ বছর, এখনো বিয়ে করতে পারিনি। একটা থাকার ঘর পর্যন্ত নেই। কোনোমতে দিন পার করছি। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই। সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু আমাদের পোড়া কপাল, সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করে। এখন আমাদের দাবি একটাই, সরকার আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দিক এবং আমাদের চাকরিটা স্থায়ী করে দিক।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সহকারী ও ঢাকা বিভাগ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন-এর সভাপতি শাহাদুল ইসলাম রিপন বলেন, আমাদের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছি। সরকার থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে আমাদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি শাখায় আছে। দেশে কোনো দুর্যোগ এলে আমাদের সাথে বসে সরকার, অন্য সময় ভুলে যায়। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে যদি আমাদের দাবি মেনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ না করে, তাহলে বিগত সময়ের চেয়েও আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, সরকারের উপর মহল থেকে চাওয়ার পরও একটি নতুন পোস্ট তৈরি করতে কমপক্ষে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগে। আর যদি স্বাভাবিকভাবে আগায়, তাহলে কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। সরকার চাইল আর নতুন পোস্ট বানিয়ে পদোন্নতি কিংবা নিয়োগ দিয়ে দিলো- সেটা কখনোই সম্ভব নয়। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তাই স্বাস্থ্য সহকারী ও পোর্টারদের দাবি পূরণে সময় লাগবে।