ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঘেরের লিজ নিয়ে রাঙ্গাবালীতে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মাছের ঘেরের লিজ ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া চরে এ সংঘর্ষে এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি ঘেরের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাঙ্গাবালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানের বাবা আলম খান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদারবুনিয়া চরের ওই ঘের ভোগদখলে রাখেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় একটি পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে ঘেরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।


এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে আলম খান ঘেরটি এক বছরের জন্য সদর ইউনিয়নের কাজীর হাওলা গ্রামের রত্তন হাওলাদারসহ চারজনের কাছে ‘একসনা’ লিজ দেন। লিজ গ্রহীতারা গত ১৯ এপ্রিল রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে তারা ঘেরটির দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের শাহ জামাল (৪৫), শেফালী বেগম (৩০), রাজ্জাক শিকদার (৬৫), রহিম খান (৫৫) ও ওহাব মাতুব্বর (৫০) আহত হন। অপরদিকে লিজগ্রহীতা পক্ষের রত্তন হাওলাদার (৫৫) ও মোখলেছুর রহমান (৪৫) আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় শাহ জামাল, শেফালী বেগম, রাজ্জাক শিকদার ও রহিম খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের ওহাব মাতুব্বর অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ একরের এই ঘেরে আলম খানের জমি দেড় একরেরও কম। বাকি মালিকরা দীর্ঘ ১৭ বছর বঞ্চিত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা নিজেদের জমি বুঝে নিলেও একটি পক্ষ পুনরায় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তার দাবি, যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে লিজগ্রহীতা রত্তন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা আড়াই লাখ টাকায় ঘেরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে গেছে এবং হামলা চালিয়েছে। তারা আইনের আশ্রয় নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় প্রথমদিনের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৮৩

ঘেরের লিজ নিয়ে রাঙ্গাবালীতে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭

প্রকাশিত : ০৭:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মাছের ঘেরের লিজ ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া চরে এ সংঘর্ষে এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি ঘেরের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাঙ্গাবালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানের বাবা আলম খান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদারবুনিয়া চরের ওই ঘের ভোগদখলে রাখেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় একটি পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে ঘেরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।


এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে আলম খান ঘেরটি এক বছরের জন্য সদর ইউনিয়নের কাজীর হাওলা গ্রামের রত্তন হাওলাদারসহ চারজনের কাছে ‘একসনা’ লিজ দেন। লিজ গ্রহীতারা গত ১৯ এপ্রিল রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে তারা ঘেরটির দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের শাহ জামাল (৪৫), শেফালী বেগম (৩০), রাজ্জাক শিকদার (৬৫), রহিম খান (৫৫) ও ওহাব মাতুব্বর (৫০) আহত হন। অপরদিকে লিজগ্রহীতা পক্ষের রত্তন হাওলাদার (৫৫) ও মোখলেছুর রহমান (৪৫) আহত হয়েছেন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় শাহ জামাল, শেফালী বেগম, রাজ্জাক শিকদার ও রহিম খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের ওহাব মাতুব্বর অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ একরের এই ঘেরে আলম খানের জমি দেড় একরেরও কম। বাকি মালিকরা দীর্ঘ ১৭ বছর বঞ্চিত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তারা নিজেদের জমি বুঝে নিলেও একটি পক্ষ পুনরায় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তার দাবি, যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে লিজগ্রহীতা রত্তন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা আড়াই লাখ টাকায় ঘেরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে গেছে এবং হামলা চালিয়েছে। তারা আইনের আশ্রয় নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।