যবিপ্রবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) রয়েছে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের সংকট। আধুনিক ও নান্দনিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিভাগের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি খেলার সুযোগ-সুবিধা। বর্তমানে ২৮টি বিভাগ ও চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র একটি কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। ফলে নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতা আয়োজন ও ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাত্র মাঠে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে হচ্ছে। একই সময়ে বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থীরা মাঠ ব্যবহারের সুযোগ চাওয়ায় প্রায়ই তৈরি হয় সময় ও জায়গার সংকট। বিশেষ করে আন্তঃবিভাগ ও অন্তঃহল টুর্নামেন্টের সময় মাঠ ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হয় শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরকে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেকেই খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আন্তঃবিভাগ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার সময় মাঠের ব্যবহার বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময়ে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ সীমিত থাকে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য দ্রুত আরও খেলার মাঠ তৈরি করা প্রয়োজন।
যবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আসিফ হাসান বলেন, “এখন আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। ২৮টি বিভাগ এতে অংশ নিচ্ছে। ফলে শুধু ম্যাচ আয়োজন নয়, প্রতিটি দলের অনুশীলনেরও প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু একটি মাঠ হওয়ায় সবাইকে সময় ভাগ করে নিতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত অনুশীলন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু ফুটবল নয়, অন্যান্য খেলাগুলোর জন্যও আমরা পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও মাঠ থাকলে একসঙ্গে বিভিন্ন খেলার অনুশীলন করা সম্ভব হতো এবং শিক্ষার্থীরাও খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ পেত।”
এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির বলেন, খেলার মাঠ তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জায়গা। তিনি বলেন, “মাঠ পাওয়ার জন্য আমাদের পরিকল্পনা আছে। তবে আগে জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা জায়গার জন্য সরকারের কাছে বলছি এবং সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও দেন-দরবার করছি। সরকার জায়গা দিলে তখনই মাঠ তৈরি করা সম্ভব হবে। এর আগে আলাদাভাবে মাঠ করার মতো সুযোগ আমাদের নেই।”
মাঠ তৈরির সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, “এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়। কারণ এটি সরকারের একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। আমরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি দিয়েছি। সেটি যাচাই-বাছাই হবে। আমাদের পক্ষ থেকেও ডিপিপি সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। এরপর ইউজিসির কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রক্রিয়াটি এগোবে। পরে জায়গা অধিগ্রহণের বিষয়ও রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যদি এখন বলে দিই যে দুই মাসের মধ্যে বা দুই বছরের মধ্যে মাঠ হয়ে যাবে, পরে যদি বিভিন্ন কারণে সেটা না হয়, তাহলে আবার সমস্যা তৈরি হবে। তাই সুনির্দিষ্ট সময় বলা ঠিক হবে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং তারাও বিষয়টি জানে।”
উপাচার্য বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় এত কম জায়গার মধ্যে চলতে পারে না—এ বিষয়টি সরকারও অনুধাবন করছে। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়া সুবিধা সম্প্রসারণেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যবিপ্রবিতে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















