ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ রক্ষায় আজ মধ্য রাত থেকে নদীতে মাছ ধার নিষেধ দুঃশ্চিন্তায় সরকারী সহায়তা বঞ্চিত জেলেরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী সারা দেশের নদ-নদীতে সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত প্রতি জেলে ২৫ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল পাবে। এসময়ে বরাদ্দকৃত চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য সঠিক তালিকা তৈরী করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন জেলেরা। তবে জেলা মৎস কর্মকর্তা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫৪ হাজার। এ সব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৪২ হাজার ১শ ৫০ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা দিলেও ১১ হাজার ৮শ ৫০ জন জেলে ভিজিএফ এর চাল পাচ্ছেনা। তাদের পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে জানায় মৎস্য বিভাগ। জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ২২ দিন লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় সকল ধরণের জাল ফেলা, মাছ ধরা, ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়—বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় ইতোমধ্যে মাইকিং ও পোষ্টারিংসহ সকল ধরণের প্রচার প্রচারণ অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার সময় ৪২ হাজার ১শ ৫০ জেলে পরিবারকে ১৫৩ মে. টন ভিজিএফ এর চাল দেয়ে হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

বিগত বছরগুলোতে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জেলেরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের কারণে প্রকৃত জেলেদের অনেকই সরকারের এ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন সে ধরণের অনিয়ম না হয় তার জন্য প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা করে চাল বিতরণের কাজ দ্রুত করার দাবী তাদের।
এদিকে ব্যাপক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নদীতে বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়ের লোকজন। কারণ নদীতে নৌকায় তাদের বসবাস। আর জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ ধরা। এ ছাড়া তাদের বিকল্প কোন আয়ের উৎস নেই। উপরন্তু প্রতিবছরই তাদের অনেকেই সরকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে নদীতে বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়কে সরকারী খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে জোর দাবী জানান।
জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ২৩ আশি^ন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর) পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারী নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। নদীতে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময়ে প্রকৃত জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। আইন অমান্য অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদন্ড, অথবা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মা ইলিশ রক্ষায় আজ মধ্য রাত থেকে নদীতে মাছ ধার নিষেধ দুঃশ্চিন্তায় সরকারী সহায়তা বঞ্চিত জেলেরা

মা ইলিশ রক্ষায় আজ মধ্য রাত থেকে নদীতে মাছ ধার নিষেধ দুঃশ্চিন্তায় সরকারী সহায়তা বঞ্চিত জেলেরা

প্রকাশিত : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আজ ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী সারা দেশের নদ-নদীতে সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত প্রতি জেলে ২৫ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল পাবে। এসময়ে বরাদ্দকৃত চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য সঠিক তালিকা তৈরী করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন জেলেরা। তবে জেলা মৎস কর্মকর্তা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৫৪ হাজার। এ সব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৪২ হাজার ১শ ৫০ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা দিলেও ১১ হাজার ৮শ ৫০ জন জেলে ভিজিএফ এর চাল পাচ্ছেনা। তাদের পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে জানায় মৎস্য বিভাগ। জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ২২ দিন লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় সকল ধরণের জাল ফেলা, মাছ ধরা, ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়—বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় ইতোমধ্যে মাইকিং ও পোষ্টারিংসহ সকল ধরণের প্রচার প্রচারণ অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। নিষেধাজ্ঞার সময় ৪২ হাজার ১শ ৫০ জেলে পরিবারকে ১৫৩ মে. টন ভিজিএফ এর চাল দেয়ে হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

বিগত বছরগুলোতে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জেলেরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অনিয়মের কারণে প্রকৃত জেলেদের অনেকই সরকারের এ খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার যেন সে ধরণের অনিয়ম না হয় তার জন্য প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা করে চাল বিতরণের কাজ দ্রুত করার দাবী তাদের।
এদিকে ব্যাপক দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নদীতে বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়ের লোকজন। কারণ নদীতে নৌকায় তাদের বসবাস। আর জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ ধরা। এ ছাড়া তাদের বিকল্প কোন আয়ের উৎস নেই। উপরন্তু প্রতিবছরই তাদের অনেকেই সরকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে নদীতে বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়কে সরকারী খাদ্য সহায়তার আওতায় আনতে জোর দাবী জানান।
জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ২৩ আশি^ন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর) পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারী নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। নদীতে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময়ে প্রকৃত জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। আইন অমান্য অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদন্ড, অথবা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে। অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।