ফরিদপুর প্রতিনিধি: কিশোর ওমর আলী হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর রহস্য উৎঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর। ঘটনার সাথে জড়িত নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরকীয়ার জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত। সে আরো জানায় পাঁচ জন মিলে হাতপা বেঁধে, কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে মরদেহ ঘাসের জমিতে ফেলে রাখা হয়।
আসামী নজরুল ইসলাম রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার জঞ্জল ইউনিয়নের ঢোলজানী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার সকাল ১১ টার দিকে পিবিআই ফরিদপুর কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: রবিউল ইসলাম এ তথ্য জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার মো: রবিউল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির ঢোলজানী গ্রামের একটি ঘাস ক্ষেত থেকে ওমর নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর লাশ উদ্ধারের এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহতের বাবা আহেদ শেখ বাদীয় হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ক্ললেস হত্যা মামলাটি একমাস পরে পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। লাশের সুরতহালে অন্ডকোষ বিচ্ছিন্ন সূত্র ধরে মামলার তদন্ত করে পিবিআই। দীর্ঘ তদন্ত ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামী নজরুলকে সনাক্ত করা হয়।

গত ৫ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার একটি বাসা থেকে আসামী নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকান্ডের পর থেকেই সে বিভিন্ন জেলায় ছদ্দবেশে বসবাস করত।
গ্রেফতারকৃত আসামীর দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, হত্যাকান্ডে জড়িত দুই আসামীর স্ত্রীর সাথে ওমরের পরকীয়া আছে। এমন ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যার করা হয়। এজন্য ৫০ হাজার টাকার চুক্তিসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা করে ও একসাথে মাদক সেবন করতে থাকে তারা। ওমর বাড়ি ফেরার পথে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে রেখে মারধর করে ও চাকু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করতে পাশের ঘাস ক্ষেতে ফেলে যায় তারা।
পুলিশ সুপার আরো জানান, এই ঘটনায় ৫ জন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আসামী নজরুল ইসলাম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যাকান্ডের জড়িত অন্য সদস্যদের ধরাসহ আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















