ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চুয়েট উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ করার হুশিয়ারি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার সময়সীমা দেওয়া হলেও তিনি তা না মানায় ভবনটি তালাবদ্ধ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন উপাচার্য। এরপর থেকে তাকে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম পদত্যাগপত্র লিখে হস্তান্তর করলে অথবা প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এক দফা দাবি হলো, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মদুনাঘাট ও চান্দগাঁও টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার পর বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য। তাকে উপাচার্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না বলেও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা কোনো সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘন চান না। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে উপাচার্যকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো অপপ্রচার চালানো না যায়। পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভবনে অবরুদ্ধ রাখা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

সোমবার নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের যাতায়াত ঠেকাতে হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবিতে তাদের এ কর্মসূচি। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসহযোগ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের সামনে উপাচার্যকে পদত্যাগ করে নিরাপদে ক্যাম্পাস ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়েট উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ করার হুশিয়ারি

চুয়েট উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তাঁকে অবরুদ্ধ করার হুশিয়ারি

প্রকাশিত : ১২:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ভবন ছাড়ার সময়সীমা দেওয়া হলেও তিনি তা না মানায় ভবনটি তালাবদ্ধ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন উপাচার্য। এরপর থেকে তাকে ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম পদত্যাগপত্র লিখে হস্তান্তর করলে অথবা প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে তাকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এক দফা দাবি হলো, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মদুনাঘাট ও চান্দগাঁও টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার পর বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য। তাকে উপাচার্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না বলেও জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা কোনো সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘন চান না। গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে উপাচার্যকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো অপপ্রচার চালানো না যায়। পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভবনে অবরুদ্ধ রাখা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

সোমবার নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের যাতায়াত ঠেকাতে হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবিতে তাদের এ কর্মসূচি। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অসহযোগ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট আরও গভীর হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের সামনে উপাচার্যকে পদত্যাগ করে নিরাপদে ক্যাম্পাস ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান।