কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে স্যালাইন ও ওষুধ কিনতে বাধ্য হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলো।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডেঙ্গু রোগীদের উপচে পড়া ভিড়ে হাসপাতালের বেড ছাড়িয়ে মেঝে ও বারান্দায় চলছে চিকিৎসা। মশারির ভেতরে স্যালাইন ঝুলিয়ে শুয়ে আছেন রোগীরা। পুরুষ ও মহিলা—উভয় ওয়ার্ডেরই একই চিত্র। হাসপাতালের প্রধান গেটেও রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন ১৬০ জন রোগী। এর মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি হাসপাতালের এই পরিসংখ্যানের বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেশি। বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে কালিয়াকৈরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৫ জনের এবং এ পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্যালাইন ও ওষুধ জরুরি হলেও হাসপাতাল থেকে তা সরবরাহ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই দিন ধরে হাসপাতালে পড়ে আছি। চিকিৎসকরা শুধু একটা করে জ্বরের বড়ি দিয়ে যান, আর কোনো ওষুধ বা সেবা দেন না। বাধ্য হয়ে টাকা খরচ করে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে এনে লাগাচ্ছি। এমন সরকারি হাসপাতালে থেকে কী লাভ? এর চেয়ে চলে যাওয়া ভালো।”
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “পাঁচ দিন ধরে ভর্তি আছি, কিন্তু স্যালাইন থেকে শুরু করে সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষ কীভাবে এই বাড়তি খরচ চালাবে? সরকারি হাসপাতাল তো মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য, কিন্তু আমরা এখানে এসে কোনো সাহায্য পাচ্ছি না।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসলিম মুনমুন জানান, হাসপাতালে স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। তবে হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম হচ্ছে।
শুধু শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক মানোন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন কালিয়াকৈরবাসী। ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, স্যালাইনের পর্যাপ্ততা এবং রোগীদের খাবারের মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি হাসপাতালের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা সম্পূর্ণটেই উঠে যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















