ঢাকা ১০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬

স্বরূপে ফিরেছে শীত ১৪ দিনে রমেক হাসপাতালে ১৬ জনের মৃত্যু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

পৌষ শেষ না হতেই জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমেল হাওয়ার সাথে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে- এমনটাই আভাস মিলছে। এরই মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল। যেন খোলস ছেড়ে স্বরূপে ফিরেছে শীত। তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নিম্নমুখী। এমন জুবুথুবু শীতে বাড়ছে রোগ, সঙ্গে আগুন পোহাতে গিয়ে ঘটছে দগ্ধ হওয়ার ঘটনাও।

এই শীতে গত ১৪ দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে শীতজনিত রোগে মারা গেছেন ১৬ জন। শীতের প্রকোপ বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বাড়ছে শীতে রোগাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এসব রোগীর মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুসহ বয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রমেক হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজার রহমান বাঁধন জানান, শীতজনিত রোগবালাই বিশেষ করে নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ। শীতজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় সহস্রাধিক শিশু গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, এসব রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে গরম কাপড় পরানো জরুরি। মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন বাচ্চাদের শীত না লাগে। তবে বেশি অসুস্থ মনে হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতালে নিতে হবে।

এদিকে রংপুর জেলার জনসংখ্যা প্রায় ত্রিশ লক্ষাধিক। এর মধ্যে শীতার্ত মানুষের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে শুধু রংপুর মহানগরীতেই বাস করেন প্রায় ৭০ হাজার ভাসমান নারী-পুরুষ। এরা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতের বারান্দা আর ফুটপাতে রাত কাটান। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

একইভাবে জেলার আট উপজেলা বিশেষ করে তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া, যমুনেশ্বরী বিধৌত চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার শীতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ মানুষের কাছে এখনো শীতবস্ত্র পৌঁছেনি

স্বরূপে ফিরেছে শীত ১৪ দিনে রমেক হাসপাতালে ১৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত : ১১:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষ শেষ না হতেই জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমেল হাওয়ার সাথে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে- এমনটাই আভাস মিলছে। এরই মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চল। যেন খোলস ছেড়ে স্বরূপে ফিরেছে শীত। তাপমাত্রার পারদ ক্রমশ নিম্নমুখী। এমন জুবুথুবু শীতে বাড়ছে রোগ, সঙ্গে আগুন পোহাতে গিয়ে ঘটছে দগ্ধ হওয়ার ঘটনাও।

এই শীতে গত ১৪ দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে শীতজনিত রোগে মারা গেছেন ১৬ জন। শীতের প্রকোপ বাড়ায় রমেক হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও বাড়ছে শীতে রোগাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এসব রোগীর মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি ও কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুসহ বয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রমেক হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক মাহফুজার রহমান বাঁধন জানান, শীতজনিত রোগবালাই বিশেষ করে নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক মানুষ। শীতজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় সহস্রাধিক শিশু গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, এসব রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে গরম কাপড় পরানো জরুরি। মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন বাচ্চাদের শীত না লাগে। তবে বেশি অসুস্থ মনে হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতালে নিতে হবে।

এদিকে রংপুর জেলার জনসংখ্যা প্রায় ত্রিশ লক্ষাধিক। এর মধ্যে শীতার্ত মানুষের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে শুধু রংপুর মহানগরীতেই বাস করেন প্রায় ৭০ হাজার ভাসমান নারী-পুরুষ। এরা রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতের বারান্দা আর ফুটপাতে রাত কাটান। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

একইভাবে জেলার আট উপজেলা বিশেষ করে তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া, যমুনেশ্বরী বিধৌত চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার শীতে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। তাদের বেশিরভাগ মানুষের কাছে এখনো শীতবস্ত্র পৌঁছেনি