ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় ডায়রিয়ার প্রকোপ: ৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ১২৬ রোগী, ড্রেনেজ সংকটে নাজেহাল হাসপাতাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১০:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। মাত্র ৫ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১২৬ জন রোগী। ফলে ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেককে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ড্রেন উপচে পড়া পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেকেই হাসপাতালের এমন দূষিত পরিবেশের জন্য পৌরসভার গাফিলতিকেই দায়ী করছেন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বারান্দায় অবস্থানরত দামুড়হুদা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের শিশু আয়ানের মা জানান, “হাসপাতালে রোগীর এত চাপ যে ওয়ার্ডে জায়গা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছি, তবে রাতে ঠান্ডায় শিশুকে নিয়ে কষ্ট হচ্ছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলে রোগীদের দুর্ভোগ কমত।”
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন শোয়েব আলী বলেন, “রোগ সারাতে হাসপাতালে আসি। কিন্তু ড্রেনের পচা দুর্গন্ধে আরও অসুস্থ লাগছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পরিবেশের উন্নতি করা জরুরি।”
হাসপাতালের সিনিয়র নার্স মহিমা আক্তার জানান, রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা খুবই কম। “একসাথে এত রোগী সামলানো আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি শিফটে মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। মোট তিন শিফটে তিনজন স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত সহায়তা করছেন,” বলেন তিনি।
রোগের হঠাৎ বিস্তারের পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তন নাকি পানির সমস্যা—তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে জনবল বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, “বর্তমানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ১২৬ জন রোগী। পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলায় ১৬৫ জন নার্স থাকলেও চুয়াডাঙ্গায় আছেন মাত্র ৬৫ জন। এত রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে সচেতন হতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করা, বাসি ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। বমি না থাকলে বেশি করে খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।
হাসপাতালের ড্রেনেজ সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, “ড্রেনগুলো নিচু হওয়ায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, সেখান থেকেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। পিডব্লিউডি বা পৌরসভা যদি ড্রেনগুলো উঁচু করে এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখত, তাহলে পরিবেশ অনেক ভালো থাকত।ডায়রিয়ার এই হঠাৎ প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ বাড়লেও চিকিৎসকরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরই জোর দিচ্ছেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে বিভিন্ন মাদক জাতীয় সিরাপ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় ডায়রিয়ার প্রকোপ: ৫ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি ১২৬ রোগী, ড্রেনেজ সংকটে নাজেহাল হাসপাতাল

প্রকাশিত : ১০:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল। মাত্র ৫ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১২৬ জন রোগী। ফলে ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেককে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ড্রেন উপচে পড়া পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেকেই হাসপাতালের এমন দূষিত পরিবেশের জন্য পৌরসভার গাফিলতিকেই দায়ী করছেন।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বারান্দায় অবস্থানরত দামুড়হুদা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের শিশু আয়ানের মা জানান, “হাসপাতালে রোগীর এত চাপ যে ওয়ার্ডে জায়গা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছি, তবে রাতে ঠান্ডায় শিশুকে নিয়ে কষ্ট হচ্ছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলে রোগীদের দুর্ভোগ কমত।”
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন শোয়েব আলী বলেন, “রোগ সারাতে হাসপাতালে আসি। কিন্তু ড্রেনের পচা দুর্গন্ধে আরও অসুস্থ লাগছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পরিবেশের উন্নতি করা জরুরি।”
হাসপাতালের সিনিয়র নার্স মহিমা আক্তার জানান, রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা খুবই কম। “একসাথে এত রোগী সামলানো আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি শিফটে মাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। মোট তিন শিফটে তিনজন স্বেচ্ছাসেবক দিনরাত সহায়তা করছেন,” বলেন তিনি।
রোগের হঠাৎ বিস্তারের পেছনে আবহাওয়ার পরিবর্তন নাকি পানির সমস্যা—তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে জনবল বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, “বর্তমানে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ১২৬ জন রোগী। পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর জেলায় ১৬৫ জন নার্স থাকলেও চুয়াডাঙ্গায় আছেন মাত্র ৬৫ জন। এত রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে সচেতন হতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করা, বাসি ও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। বমি না থাকলে বেশি করে খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। অবস্থা গুরুতর হলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।
হাসপাতালের ড্রেনেজ সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, “ড্রেনগুলো নিচু হওয়ায় ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে, সেখান থেকেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। পিডব্লিউডি বা পৌরসভা যদি ড্রেনগুলো উঁচু করে এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখত, তাহলে পরিবেশ অনেক ভালো থাকত।ডায়রিয়ার এই হঠাৎ প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ বাড়লেও চিকিৎসকরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরই জোর দিচ্ছেন।