ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক–এ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতু। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে যুক্ত করা এই ব্যস্ত মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করলেও ৪৮ বছরের পুরোনো ও সরু সেতুর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র নদ–এর ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত দুই লেনের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশের রেলিং ভেঙে গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ছয় লেন মহাসড়কে যান চলাচল বাড়লেও সরু সেতুর কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।

মেঘনা টোল প্লাজা সূত্র জানায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কুমিল্লাসহ অন্তত সাত জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে। সেই হিসেবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন সড়কটি অতিক্রম করে।

এদিকে মেঘনা টোল প্লাজার সামনে প্রবেশপথের দুটি লেনে পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। টোল লাইনে প্রবেশের সময় গাড়ি ধীরগতিতে চলায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক আয়নাল মিয়া বলেন, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। বৃষ্টি হলেই পিচ উঠে যায়, গর্তের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হয়।

ট্রাকচালক শাকিল বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা দরকার।

নিয়মিত যাত্রী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু পার হতে এখন আতঙ্ক লাগে। বিশেষ করে অফিস টাইমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। সেতুর ওপর গর্ত আর ভাঙা রেলিং দেখে মনে হয় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। মহাসড়ক সচল রাখতে আপাতত সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের ‘লাইফ লাইন’ খ্যাত এই মহাসড়ক যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে। এখন দেখার বিষয়—সংস্কার আর প্রতিশ্রুতির বাইরে কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট

প্রকাশিত : ০৮:৫৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক–এ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ সেতু। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে যুক্ত করা এই ব্যস্ত মহাসড়কে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করলেও ৪৮ বছরের পুরোনো ও সরু সেতুর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র নদ–এর ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত দুই লেনের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশের রেলিং ভেঙে গেছে, বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ছয় লেন মহাসড়কে যান চলাচল বাড়লেও সরু সেতুর কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে।

মেঘনা টোল প্লাজা সূত্র জানায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কুমিল্লাসহ অন্তত সাত জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার যানবাহন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে। সেই হিসেবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি যানবাহন সড়কটি অতিক্রম করে।

এদিকে মেঘনা টোল প্লাজার সামনে প্রবেশপথের দুটি লেনে পিচ উঠে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। টোল লাইনে প্রবেশের সময় গাড়ি ধীরগতিতে চলায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শ্যামলী পরিবহনের চালক আয়নাল মিয়া বলেন, সেতুটি পুরোনো হওয়ায় প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। বৃষ্টি হলেই পিচ উঠে যায়, গর্তের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হয়।

ট্রাকচালক শাকিল বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা দরকার।

নিয়মিত যাত্রী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতু পার হতে এখন আতঙ্ক লাগে। বিশেষ করে অফিস টাইমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। সেতুর ওপর গর্ত আর ভাঙা রেলিং দেখে মনে হয় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সেতুর পাশে নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত হয়েছে। মহাসড়ক সচল রাখতে আপাতত সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের ‘লাইফ লাইন’ খ্যাত এই মহাসড়ক যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে। এখন দেখার বিষয়—সংস্কার আর প্রতিশ্রুতির বাইরে কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান।