জাহিদুল ইসলাম, দুমকি প্রতিনিধিঃ আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় বাউফল উপজেলার ২৩০ শিক্ষার্থী নদী পার হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে দুমকি উপজেলার জয়গুননেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। জানাগেছে, এবছর আন্তশিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কেন্দ্রস্থ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সে মোতাবেক বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোড- ৩১৩) এর আওতাধীন বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাশ্ববর্তী উপজেলা দুমকি উপজেলার জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র- ৩১২) কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে। ইতোপূর্বে নিজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা পাশাপাশি ভিন্ন ভেন্যুতে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেতো।
বগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সূত্রে জানাগেছে, আন্ত শিক্ষাবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিদ্যালয়ের ২৩০ শিক্ষার্থীকে পাশ্ববর্তী উপজেলা দুমকি উপজেলার জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। নদী পার হয়ে কেন অন্য উপজেলায় পরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিজ উপজেলায় পাশ্ববর্তী কেন্দ্র রয়েছে বাউফলে যা বিদ্যালয় থেকে ১০- ১১ কিলোমিটার দূরত্বে। অন্য আরেকটি কেন্দ্র রয়েছে নওমালায় যা বিদ্যালয় থেকে ১১ কিলোমিটার দূরত্বে এবং রাস্তা খারাপ থাকায় অভিভাবকরা আপত্তি দেয়ায় ওই কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে দাঁড়াতে হয়েছে। দূরত্ব কাছে হওয়ায় এবং অভিভাবকদের সম্মতিতে ওই কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নদী পারাপার হয়ে অন্য উপজেলায় পরীক্ষা দিতে সন্তানদের মধ্যে উৎকন্ঠা ও হতাশা কাজ করছে। এবারের পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে কঠোরতার কথা শোনা যাচ্ছে এরপরও কেন ভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হবে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনার কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত না দিলেও হতো। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসজিদুল ইসলাম অন্তর,সিয়াম আহমেদ, নাবিয়া,শর্মিলা ও সাইবা জাহান ছারা জানান, বগা থেকে বাউফলের অন্যান্য কেন্দ্র বেশ দূরে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা খারপ হওয়ায় পাশ্ববর্তী দুমকি জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। নদী পারাপারে একটু সমস্যা হলেও অন্য কেন্দ্রের তুলনায় কাছাকাছি হওয়ায় তাদের ভোগান্তি কম হবে। তবে নিজ কেন্দ্রের ভিন্ন ভেন্যুতে পরীক্ষা দিতে পারলে কষ্ট লাঘব হতো।
অভিভাবক মো. এনামুল কবিরের ভাষ্য, নদী পারাপার হয়ে দুমকিতে পরীক্ষা দিতে গেলে ভোগান্তি বাড়বে। তারঁ দাবি পরীক্ষার্থীদের পারাপারের ক্ষেত্রে ফেরি ও খেয়া নৌকাগুলো যেন অগ্রাধিকার দেয়।

অভিভাবক মোসা. নাজমা বেগম বলেন, একদিকে দূরত্ব অন্যদিকে নদী পারাপার হয়ে পরীক্ষা দিতে ছেলেমেয়েদের জন্য দুশ্চিন্তারই কারন। নিজ কেন্দ্র পরীক্ষা দিতে পারলে ওদের অনেক ভালো হতো।
খাইরুল আলম টুটু বলেন, অন্য কেন্দ্রের থেকে দুমকির কেন্দ্র একটু কাছে। নদী পার হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে সময় একটু বেশি নষ্ট হবে। নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারলে প্রস্তুতি ভালো হতো।
শিক্ষানুরাগী মো. নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, আন্তঃ বোর্ডের সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়াবে। নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের রেখে শুধুমাত্র শিক্ষকদের পরিবর্তন করেলেই হতো। এ বিষয়ে উর্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত।
বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সোনালী রানী মজুমদার বলেন, আন্তঃ বোর্ডের এ সিদ্ধান্ত মোটেই পরীক্ষার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। উপকারের চেয়ে তাদের ক্ষতিই বেশি হবে। নদী পারাপার অনেকের জন্য মানষিক অস্বস্তি বাড়াবে।
বগা মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মহিউদ্দিন জানান, বগা কেন্দ্র থেকে নিকটতম নওমালা৷ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার আবেদন করেছিলেন। তাদের পরীক্ষা নেওয়ার ধারন ক্ষমতা না থাকায় বাধ্য হয়ে ছাত্র ও অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে দুমকিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দুমকি উপজেলার জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের সচিব সত্যরঞ্জন দাস বলেন, বাউফলের বগা থেকে ২৩০ জন শিক্ষার্থী আাসায় এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫৫২ জনে। কেন্দ্রের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। পরীক্ষা নিতে কোন সমস্যা হবেনা।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি,এম, শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সচিব এবং বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নদীপারাপারের বিষয়ে তিনি জানান, ছোট নদী হওয়ায় তেমন সমস্যা হওয়ার কথা না। পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার দু’ ঘন্টা আগ থেকেই পরীক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য ফেরি ও খেয়া নৌকাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করলে সমস্যা হবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















