ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাকেরগঞ্জের শখের খামারে আজাদের বাজিমাত,ছয়টি হরিণ থেকে খামারে এখন ২৭ টি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৪০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
শুধু সুন্দরবন নয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী গ্রামেই সহজে দেখা মিলছে হরিণের ঝাঁক। শখের বসে সরকারি অনুমোদন নিয়ে ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম আজাদ ২০২০ সালে নিজ গ্রামে মাত্র ছয়টি চিত্রা হরিণ দিয়ে এই খামারটি গড়ে তোলেন। তার শখের খামারে ৬ বছরে কোনো হরিণ বিক্রি না করায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ টি। বাড়ছে খামারের বিস্তৃতিও।
বিশেষ নিরাপত্তায় পরিচালিত খামারটিতে হরিণ পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন ৩ জন কর্মী। তাদের আন্তরিক যত্নের কারণেই মানুষ কাছে গেলেও বনের হরিণের মতো ছোটাছুটি করে না খামারের হরিণগুলো।
খামারের ম্যানেজার ইয়াসিন জানান, খামারের পাশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ঘাস হরিণদের প্রধান খাদ্য। কোন প্রকার ফিট খাবার ছাড়াই প্রতিদিন নিয়ম করে নিজেদের উৎপাদিত ঘাস, তরমুজ সহ বিভিন্ন ধরনের ফল, ডাল ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হয় হরিণগুলোকে।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এই হরিণ খামার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে এসে হরিণ দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান।
খামার মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, হরিণ লালন-পালন তুলনামূলকভাবে কম খরচে সম্ভব হলেও বাজারে এর চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক বেশি। উদ্যোগটি সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিরল প্রজাতির হরিণ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
তবে খামার পরিচালনায় কিছু জটিলতা আছে উল্লেখ করে খামার কর্তৃপক্ষ বলেন, তিন মাস পরপর বন বিভাগ পরিদর্শনে আসে। সব তথ্য দেখাতে হয়। বাচ্চা প্রসবের ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি জানাতে হয়। হরিণ বিক্রি বা দান করতে হলেও আগাম অনুমতি নিতে হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এই হরিণ খামার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে এসে হরিণ দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত এসে হরিণগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন বলেও জানান উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসার মো: সালেহ আল রেজা।
বাকেরগঞ্জের বন কর্মকর্তা মনীন্দ্র নাথ হালদার বলেন, সরকারের নিয়ম মেনে খামারটি করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

মুদির দোকান হতে ১০০ লিটার ডিজেল জব্দ, ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড

বাকেরগঞ্জের শখের খামারে আজাদের বাজিমাত,ছয়টি হরিণ থেকে খামারে এখন ২৭ টি

প্রকাশিত : ০৮:৪০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
শুধু সুন্দরবন নয় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী গ্রামেই সহজে দেখা মিলছে হরিণের ঝাঁক। শখের বসে সরকারি অনুমোদন নিয়ে ব্যবসায়ী মো. আবুল কালাম আজাদ ২০২০ সালে নিজ গ্রামে মাত্র ছয়টি চিত্রা হরিণ দিয়ে এই খামারটি গড়ে তোলেন। তার শখের খামারে ৬ বছরে কোনো হরিণ বিক্রি না করায় সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ টি। বাড়ছে খামারের বিস্তৃতিও।
বিশেষ নিরাপত্তায় পরিচালিত খামারটিতে হরিণ পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন ৩ জন কর্মী। তাদের আন্তরিক যত্নের কারণেই মানুষ কাছে গেলেও বনের হরিণের মতো ছোটাছুটি করে না খামারের হরিণগুলো।
খামারের ম্যানেজার ইয়াসিন জানান, খামারের পাশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ঘাস হরিণদের প্রধান খাদ্য। কোন প্রকার ফিট খাবার ছাড়াই প্রতিদিন নিয়ম করে নিজেদের উৎপাদিত ঘাস, তরমুজ সহ বিভিন্ন ধরনের ফল, ডাল ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়া হয় হরিণগুলোকে।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এই হরিণ খামার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে এসে হরিণ দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান।
খামার মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, হরিণ লালন-পালন তুলনামূলকভাবে কম খরচে সম্ভব হলেও বাজারে এর চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক বেশি। উদ্যোগটি সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিরল প্রজাতির হরিণ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
তবে খামার পরিচালনায় কিছু জটিলতা আছে উল্লেখ করে খামার কর্তৃপক্ষ বলেন, তিন মাস পরপর বন বিভাগ পরিদর্শনে আসে। সব তথ্য দেখাতে হয়। বাচ্চা প্রসবের ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি জানাতে হয়। হরিণ বিক্রি বা দান করতে হলেও আগাম অনুমতি নিতে হয়।
এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যেও এই হরিণ খামার নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে এসে হরিণ দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত এসে হরিণগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন বলেও জানান উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসার মো: সালেহ আল রেজা।
বাকেরগঞ্জের বন কর্মকর্তা মনীন্দ্র নাথ হালদার বলেন, সরকারের নিয়ম মেনে খামারটি করা হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।