বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিইএ) চেয়ারম্যান পদে কে আসীন হচ্ছেন, তা নিয়ে নগরজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। স্থানীয় বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি দলটির আরও কয়েকজন নেতা এ পদে আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবির চালাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে কবে নাগাদ সরকারের পক্ষ থেকে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে বরিশাল ছাড়া দেশের আরও আটটি শহরের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি হওয়ার পর থেকেই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই অধ্যাদেশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নগরবাসীর মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য এবায়েদুল হক চান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন এবং মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ।

কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। তাদের ভাষ্য, যাকে সবচেয়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য মনে করা হবে, তাকেই মনোনীত করা হতে পারে।
পদপ্রত্যাশী নেতারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বেশি মন্তব্য করতে না চাইলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনেকেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তবে প্রকাশ্যে সবাই দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রাখার কথা বলছেন।
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, নগরের পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য এমন একজন চেয়ারম্যান প্রয়োজন, যিনি বরিশালের বাস্তবতা, সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সম্যক অবগত।
অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, তিনি কোনো পদ-পদবির প্রত্যাশী নন। তবে সরকার দায়িত্ব দিলে গুরুত্বের সঙ্গে তা পালন করবেন।
এদিকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও ভূমিকা নিয়েও নগরবাসীর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বরিশালের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খেলার মাঠ ও জলাশয় রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে একজন দক্ষ, সৎ ও দূরদর্শী ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

বরিশালের সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ বলেন, “পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের জন্য বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন চেয়ারম্যান প্রয়োজন, যিনি নগরের পরিবেশ, খেলার মাঠ ও জলাশয় সংরক্ষণে আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন।”
বাসদের বরিশাল জেলা সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বরিশালবাসীর স্বার্থে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও জনবান্ধব চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।”
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, “সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অতীতের ভুল পরিকল্পনা ও জনদুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি বরিশালবাসী আর দেখতে চায় না।
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতার মধ্য থেকেই একজনকে মনোনীত করা হতে পারে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















