খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার আর ফিরে পাবেন—এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী জানোকি চাকমা। কিন্তু তাঁর সেই ধারণা বদলে দিয়েছেন দীঘিনালার আনসার সদস্য আবু হানিফ মিয়া। প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ফিরিয়ে দিয়ে সততার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মধ্য বোয়ালখালী বাজারের। প্রায় দুই মাস ১৫ দিন আগে বাজারে ইয়াকুব আলীর চায়ের দোকানের সামনে একটি ছোট ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন হানিফ মিয়া। ব্যাগের ভেতরে স্বর্ণের কানের দুল পাওয়ার পর সেগুলোর মালিককে খুঁজতে উদ্যোগী হন তিনি।
কিন্তু সহজে মালিকের সন্ধান মেলেনি। স্থানীয় চায়ের দোকান ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে গহনার মালিককে খুঁজতে থাকেন হানিফ। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দিয়ে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর জানতে পারেন, গহনাগুলোর মালিক জানোকি চাকমা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টায় মধ্য বোয়ালখালী বাজারে তথ্য যাচাই শেষে জানোকি চাকমার হাতে স্বর্ণালংকারগুলো ফিরিয়ে দেন তিনি। দীর্ঘদিন পর হারানো গহনা ফিরে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেন ওই বৃদ্ধা।

জানোকি চাকমা বলেন, “হারিয়ে যাওয়া জিনিসের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এত দিন পর সেগুলো ফিরে পাব, তা কল্পনাও করিনি। গহনাগুলো ফিরে পেয়ে আমি অনেক খুশি। আল্লাহ যেন হানিফ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সবাইকে সুস্থ ও ভালো রাখেন।”
আনসার সদস্য আবু হানিফ মিয়া বলেন, “গহনাগুলো পাওয়ার পর থেকেই মালিককে খুঁজছিলাম। অনেকে খোঁজ দিলেও সঠিক তথ্য দিতে পারেননি, তাই কাউকে দিইনি। জানোকি চাকমা সঠিক তথ্য দিয়েছেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে গহনাগুলোর মিল পাওয়ায় সেগুলো তাঁর হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি।”
মূল্যবান সম্পদ হাতে পেয়েও নিজের কাছে রেখে না দিয়ে প্রকৃত মালিকের সন্ধানে সময় ব্যয় করেছেন হানিফ মিয়া। তাঁর এই উদ্যোগ সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এমন ঘটনা সমাজে মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















