ঢাকা ০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কটিয়াদীতে অযত্নে-অবহেলায় থাকা খেজুর গাছে বেড়েছে কদর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৭:৩৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের বেতাল গ্রামে সারাবছর অযত্নে- অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছে বেড়েছে কদর।শীত মৌসুমে তাই এখন বাড়ির আনাচে কানাচে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছ পরিচর্যা ও রস সংগ্রহে গাছিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।বিগত কয়েক বছর ধরে অনেক খেজুর গাছ গাছির অভাবে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি গ্রামগুলোতে। এতে করে এ গ্রাম থেকে দিন দিন খেজুর গাছ ও রস বিলুপ্ত প্রায় ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য মৌসুমি গাছিরা গুড় তৈরিতেও ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন এখন থেকেই। এ কারণেই সারা বছর অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর। এলাকার আনাচে-কানাচেতে বেড়ে উঠা খেজুর গাছ বর্তমানে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর। বাইরে থেকে এসেছেন খেজুর গাছ পরিচর্যা জন্য গাছিরা।
মৌসুমি গাছি হাসান মিয়া দৈনিক যায়যায়দিনকে জানান, এ গ্রামে আমরা সর্বপ্রথম এসেছি রস সংগ্রহ করতে। বর্তমানে রস অনেক কম হওয়ার কারনে বিক্রি কম। যুগ যুগ অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছ গুলো চুক্তি ভিত্তিক নিয়ে দু-পক্ষই লাভবান হচ্ছি কারন বাড়তি কিছু টাকা আয় হচ্ছে। গাছের মালিক চুক্তি শেষে টাকা পাবে আর আমরা এখন রস বিক্রি করে টাকা উপার্জন করছি। রস নিজে খাই আবার বিক্রি করি, প্রতি লিটার খেজুরে রস ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও বিক্রি করি।
আরেকজন গাছি জানান প্রত্যেকটি খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গাছে নল লাগানো হয়েছে। বিকালে গাছ ছাঁটাই করে গাছিরা মাটির হাঁড়ি বেঁধে দিচ্ছেন। রাতের রসের হাঁড়িতে যেন বাদুর বসতে না পারে সে জন্য নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। কাঁচা রস বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া হচ্চে। অনেকেই কাঁচা রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করছেন। গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টি গাছ থেকে প্রতিদিন সকালে ২৫ থেকে ৩০ লিটার রস সংগ্রহ করেন। গ্রামের মানুষের চাহিদা পূরন করে এই রস বাজারে পাইকারি বিক্রি করেন বলে গাছি জানান।
আচমিতা গ্রামের আব্দুল হক(৮০) জানান, এক সময় গ্রামের মেঠো পথে, বাড়ির আঙিনায়, জমির আইলে, চোখে পড়তো সারি-সারি খেজুর গাছ। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আগের মতো সারি- সারি খেজুর গাছ এখন আর চোখে পড়ে না।খেজুর গাছ চোখে পড়লেও সেগুলোর কদর নাই বললেও চলে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কারণ নতুন করে খেজুর গাছ রোপনে মানুষ আগ্রহী হচ্ছে না।খেজুর গাছ রোপণে সরকারি-বেসরকারি প্রচারণা থাকলে খেজুর গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সমাজের সচেতন মহল।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া  বলেন, খেজুর গাছ এমন একটি গাছ, যার জন্য বাড়তি কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।  গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে যত ধরনের যন্ত্রের প্রয়োজন তা আমরা গাছিদের সংগ্রহ করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বাড়ির আশপাশ, জমির আইল, পুকুরপাড় এবং সড়কের ধারে খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে বিজিবি”র পৃথক দুটি অভিযানে দুইলাখ ৮৯ হাজার ৫শত টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ

কটিয়াদীতে অযত্নে-অবহেলায় থাকা খেজুর গাছে বেড়েছে কদর

প্রকাশিত : ০৭:৩৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের বেতাল গ্রামে সারাবছর অযত্নে- অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছে বেড়েছে কদর।শীত মৌসুমে তাই এখন বাড়ির আনাচে কানাচে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছ পরিচর্যা ও রস সংগ্রহে গাছিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।বিগত কয়েক বছর ধরে অনেক খেজুর গাছ গাছির অভাবে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি গ্রামগুলোতে। এতে করে এ গ্রাম থেকে দিন দিন খেজুর গাছ ও রস বিলুপ্ত প্রায় ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য মৌসুমি গাছিরা গুড় তৈরিতেও ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন এখন থেকেই। এ কারণেই সারা বছর অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর। এলাকার আনাচে-কানাচেতে বেড়ে উঠা খেজুর গাছ বর্তমানে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর। বাইরে থেকে এসেছেন খেজুর গাছ পরিচর্যা জন্য গাছিরা।
মৌসুমি গাছি হাসান মিয়া দৈনিক যায়যায়দিনকে জানান, এ গ্রামে আমরা সর্বপ্রথম এসেছি রস সংগ্রহ করতে। বর্তমানে রস অনেক কম হওয়ার কারনে বিক্রি কম। যুগ যুগ অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছ গুলো চুক্তি ভিত্তিক নিয়ে দু-পক্ষই লাভবান হচ্ছি কারন বাড়তি কিছু টাকা আয় হচ্ছে। গাছের মালিক চুক্তি শেষে টাকা পাবে আর আমরা এখন রস বিক্রি করে টাকা উপার্জন করছি। রস নিজে খাই আবার বিক্রি করি, প্রতি লিটার খেজুরে রস ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও বিক্রি করি।
আরেকজন গাছি জানান প্রত্যেকটি খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গাছে নল লাগানো হয়েছে। বিকালে গাছ ছাঁটাই করে গাছিরা মাটির হাঁড়ি বেঁধে দিচ্ছেন। রাতের রসের হাঁড়িতে যেন বাদুর বসতে না পারে সে জন্য নেট ব্যবহার করা হচ্ছে। কাঁচা রস বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া হচ্চে। অনেকেই কাঁচা রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করছেন। গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টি গাছ থেকে প্রতিদিন সকালে ২৫ থেকে ৩০ লিটার রস সংগ্রহ করেন। গ্রামের মানুষের চাহিদা পূরন করে এই রস বাজারে পাইকারি বিক্রি করেন বলে গাছি জানান।
আচমিতা গ্রামের আব্দুল হক(৮০) জানান, এক সময় গ্রামের মেঠো পথে, বাড়ির আঙিনায়, জমির আইলে, চোখে পড়তো সারি-সারি খেজুর গাছ। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আগের মতো সারি- সারি খেজুর গাছ এখন আর চোখে পড়ে না।খেজুর গাছ চোখে পড়লেও সেগুলোর কদর নাই বললেও চলে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। কারণ নতুন করে খেজুর গাছ রোপনে মানুষ আগ্রহী হচ্ছে না।খেজুর গাছ রোপণে সরকারি-বেসরকারি প্রচারণা থাকলে খেজুর গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সমাজের সচেতন মহল।
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া  বলেন, খেজুর গাছ এমন একটি গাছ, যার জন্য বাড়তি কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।  গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে যত ধরনের যন্ত্রের প্রয়োজন তা আমরা গাছিদের সংগ্রহ করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বাড়ির আশপাশ, জমির আইল, পুকুরপাড় এবং সড়কের ধারে খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয়।