ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি, তবে কার্নিভাল ঘিরে রয়ে গেল অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নিরাপত্তা ও জনসমাগমে স্বস্তি, হোটেলভাড়া, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য নিয়ে ক্ষোভ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৫:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: দুই দিনের উৎসব শেষ হয়েছে, কুয়াকাটা সৈকতে ফিরেছে স্বাভাবিক ছন্দ। পর্যটক-দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর উৎসবের আমেজে মুখর ছিল পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’ শেষ হয়েছে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে স্বস্তি থাকলেও আয়োজনের নানা অসংগতি, তথ্যসেবার ঘাটতি, আবাসিক হোটেল ও যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া এবং সৈকতের পরিবেশদূষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে এমনিতেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নয় বছর পর আয়োজিত পর্যটন কার্নিভাল। ফলে সৈকত ও অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপুল মানুষের সমাগমের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
শনিবার রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। পরদিন রোববার সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন-পরবর্তী কার্যক্রম। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের তৎপরতা ও আয়োজনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি কার্নিভালজুড়ে আলোচনায় ছিল। স্থানীয়দের পাশাপাশি আগত পর্যটকদের অনেকে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আয়োজনের সফলতার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলোও সামনে এসেছে।

কার্নিভালের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে শুক্রবার রাতে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। সাদ্দাম মাল, নিজাম উদ্দিন, আলমাস সিকদার ও মাসুদ পারভেজ সাগরের সমন্বয়ে পরিবেশিত অনুষ্ঠান স্থানীয় মানুষের আগ্রহ তৈরি করে। তাঁদের পরিবেশনায় স্থানীয় জীবন, সমস্যা ও অভিজ্ঞতার নানা দিক উঠে আসে।
শনিবার রাতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী হাসানের উপস্থিতি দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে। অনেকের কাছে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্থানীয় মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে বলে মনে করেন দর্শকদের অনেকে।
তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে গিয়ে জায়গার সংকট নিয়ে অসন্তোষও দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক দর্শকের তুলনায় অনুষ্ঠানস্থলের পরিসর ও ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ছিল কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

কার্নিভাল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলে তথ্যকেন্দ্রের কার্যকর সেবা পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আয়োজন ও ইভেন্ট সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেক দর্শনার্থীকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়েছে। ম্যারাথন আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
কার্নিভাল ঘিরে বিভিন্ন তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির অংশগ্রহণের প্রচার থাকলেও তাঁদের কারও কারও অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারা কোন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, কোথায় কোন আয়োজন চলছে কিংবা সময়সূচিতে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে দর্শনার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, একটি বড় পর্যটন আয়োজনের সাফল্য শুধু দর্শকের উপস্থিতি কিংবা মঞ্চের চাকচিক্যের ওপর নির্ভর করে না। দর্শনার্থীদের তথ্য, নিরাপত্তা, চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি থাকায় কার্নিভালের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলে তাঁদের অভিমত।

কার্নিভাল উপলক্ষে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক হোটেল, খাবারের হোটেল এবং স্থানীয় যানবাহনের ভাড়া নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন পর্যটকের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হোটেলকক্ষের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে। সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে চলাচলকারী অটোবাইক, টমটম ও অটোভ্যানের ভাড়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসাদুল্লাহ হাসান মুসা লিখেছেন, ‘যে হোটেলে ৬০০ টাকা দিয়ে এসি রুমে থাকতাম, সেই হোটেলে নন-এসি রুমে ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে।’ তাঁর এই পোস্টের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রে কক্ষভাড়া নির্ধারণ ও পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে আসে।
পর্যটকদের অভিযোগ, ছুটি ও উৎসবের সময় বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে কিছু হোটেল এবং যানবাহনচালক ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। এতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটককে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়েছে। কার্নিভালের মতো বড় আয়োজন পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও সেই সুযোগে পর্যটকদের ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয় বলে মনে করেন তাঁরা।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, কার্নিভাল আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাঁরা নিজেদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। হোটেলভাড়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
কার্নিভালের আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সৈকতে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমা হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে সৈকতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান জানান, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কোন ঘাটতি ছিল না। ফলে এতো বড় একটা অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কার্নিভাল শেষে কুয়াকাটা সৈকতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান সপ্তাহে এক দিন সৈকত পরিষ্কারের নির্দেশ আমানউল্লাহ আমানের

শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি, তবে কার্নিভাল ঘিরে রয়ে গেল অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নিরাপত্তা ও জনসমাগমে স্বস্তি, হোটেলভাড়া, ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য নিয়ে ক্ষোভ

প্রকাশিত : ০৫:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: দুই দিনের উৎসব শেষ হয়েছে, কুয়াকাটা সৈকতে ফিরেছে স্বাভাবিক ছন্দ। পর্যটক-দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর উৎসবের আমেজে মুখর ছিল পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’ শেষ হয়েছে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে স্বস্তি থাকলেও আয়োজনের নানা অসংগতি, তথ্যসেবার ঘাটতি, আবাসিক হোটেল ও যানবাহনের অতিরিক্ত ভাড়া এবং সৈকতের পরিবেশদূষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে এমনিতেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নয় বছর পর আয়োজিত পর্যটন কার্নিভাল। ফলে সৈকত ও অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপুল মানুষের সমাগমের মধ্যেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।
শনিবার রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। পরদিন রোববার সকালে সৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন-পরবর্তী কার্যক্রম। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের তৎপরতা ও আয়োজনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়টি কার্নিভালজুড়ে আলোচনায় ছিল। স্থানীয়দের পাশাপাশি আগত পর্যটকদের অনেকে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আয়োজনের সফলতার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলোও সামনে এসেছে।

কার্নিভালের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে শুক্রবার রাতে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। সাদ্দাম মাল, নিজাম উদ্দিন, আলমাস সিকদার ও মাসুদ পারভেজ সাগরের সমন্বয়ে পরিবেশিত অনুষ্ঠান স্থানীয় মানুষের আগ্রহ তৈরি করে। তাঁদের পরিবেশনায় স্থানীয় জীবন, সমস্যা ও অভিজ্ঞতার নানা দিক উঠে আসে।
শনিবার রাতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী হাসানের উপস্থিতি দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে। অনেকের কাছে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্থানীয় মানুষের কাছাকাছি নিয়ে গেছে বলে মনে করেন দর্শকদের অনেকে।
তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে গিয়ে জায়গার সংকট নিয়ে অসন্তোষও দেখা যায়। বিপুলসংখ্যক দর্শকের তুলনায় অনুষ্ঠানস্থলের পরিসর ও ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ছিল কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

কার্নিভাল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলে তথ্যকেন্দ্রের কার্যকর সেবা পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আয়োজন ও ইভেন্ট সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেক দর্শনার্থীকে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়েছে। ম্যারাথন আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
কার্নিভাল ঘিরে বিভিন্ন তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির অংশগ্রহণের প্রচার থাকলেও তাঁদের কারও কারও অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারা কোন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, কোথায় কোন আয়োজন চলছে কিংবা সময়সূচিতে পরিবর্তন হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে দর্শনার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন, একটি বড় পর্যটন আয়োজনের সাফল্য শুধু দর্শকের উপস্থিতি কিংবা মঞ্চের চাকচিক্যের ওপর নির্ভর করে না। দর্শনার্থীদের তথ্য, নিরাপত্তা, চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বিক অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি থাকায় কার্নিভালের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি বলে তাঁদের অভিমত।

কার্নিভাল উপলক্ষে পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক হোটেল, খাবারের হোটেল এবং স্থানীয় যানবাহনের ভাড়া নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন পর্যটকের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হোটেলকক্ষের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে। সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে চলাচলকারী অটোবাইক, টমটম ও অটোভ্যানের ভাড়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসাদুল্লাহ হাসান মুসা লিখেছেন, ‘যে হোটেলে ৬০০ টাকা দিয়ে এসি রুমে থাকতাম, সেই হোটেলে নন-এসি রুমে ১ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে।’ তাঁর এই পোস্টের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রে কক্ষভাড়া নির্ধারণ ও পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে আসে।
পর্যটকদের অভিযোগ, ছুটি ও উৎসবের সময় বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে কিছু হোটেল এবং যানবাহনচালক ইচ্ছেমতো ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। এতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটককে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয়েছে। কার্নিভালের মতো বড় আয়োজন পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও সেই সুযোগে পর্যটকদের ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয় বলে মনে করেন তাঁরা।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, কার্নিভাল আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাঁরা নিজেদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। হোটেলভাড়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
কার্নিভালের আনন্দ-উৎসবের মধ্যেই সৈকতে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমা হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে সৈকতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান জানান, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কোন ঘাটতি ছিল না। ফলে এতো বড় একটা অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।