ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে পাচারের জন্য দুই কিশোরকে অপহরণের দায়ে ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৩:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

রাজবাড়ীর পাংশায় দুই কিশোরকে অপহরণ করে ভারতে পাচারের মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মন্ডলের ছেলে মো. রেজাউল মন্ডল (১৮) ও একই গ্রামের মৃত আতর আলী মিয়ার ছেলে মো. শাহীদুল মিয়া (২৭)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ মে রাত ১০টার দিকে ভারতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) এবং তার খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলামকে (১২) অপহরণ করেন। ফারুক পাংশা থানার বাগদুলী গ্রামে তার নানা মো. সাবিন বেপারীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। ওই বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অভিযোগে বলা হয়, অপহরণের পর দুই কিশোরকে মোটরসাইকেলে করে পাংশার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অপরিচিত দুই পাচারকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে একটি পিকআপে করে তাদের পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ট্রেনে তুলে পানীয়ের সঙ্গে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়। এরপর ভারতে পাচারের উদ্দেশে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।

ঘটনার ১৭ দিন পর আজিজুল কৌশলে পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে আসেন। সেখানে একটি চায়ের দোকানির মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে পাংশা থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ফারুকের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারায় রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ভুঁইয়া। তদন্ত শেষে রেজাউল মন্ডল ও শাহীদুল মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দুই কিশোরকে ভারতে পাচারের উদ্দেশে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আটকে রাখেন। পরে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। আজিজুল পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে এসে আদালতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য দেন।

রায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই আইনের ১০(১) ধারায় তাদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে

ভারতে পাচারের জন্য দুই কিশোরকে অপহরণের দায়ে ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত : ০৩:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজবাড়ীর পাংশায় দুই কিশোরকে অপহরণ করে ভারতে পাচারের মামলায় দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মন্ডলের ছেলে মো. রেজাউল মন্ডল (১৮) ও একই গ্রামের মৃত আতর আলী মিয়ার ছেলে মো. শাহীদুল মিয়া (২৭)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১০ মে রাত ১০টার দিকে ভারতে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) এবং তার খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলামকে (১২) অপহরণ করেন। ফারুক পাংশা থানার বাগদুলী গ্রামে তার নানা মো. সাবিন বেপারীর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতেন। ওই বছর তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অভিযোগে বলা হয়, অপহরণের পর দুই কিশোরকে মোটরসাইকেলে করে পাংশার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অপরিচিত দুই পাচারকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে একটি পিকআপে করে তাদের পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ট্রেনে তুলে পানীয়ের সঙ্গে কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়। এরপর ভারতে পাচারের উদ্দেশে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।

ঘটনার ১৭ দিন পর আজিজুল কৌশলে পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে আসেন। সেখানে একটি চায়ের দোকানির মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে পাংশা থানা-পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। তবে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ফারুকের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারায় রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন পাংশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ভুঁইয়া। তদন্ত শেষে রেজাউল মন্ডল ও শাহীদুল মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারা অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে দুই কিশোরকে ভারতে পাচারের উদ্দেশে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আটকে রাখেন। পরে ফারুককে ভারতে পাচার করা হয়। আজিজুল পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে এসে আদালতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য দেন।

রায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই আইনের ১০(১) ধারায় তাদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।