ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জলরঙে ভেসে উঠল কুয়াকাটা রাখাইনদের জলকেলি উৎসবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতলো সাগরকন্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৬:৩১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: কুয়াকাটার আকাশে তখন বিকেলের নরম আলো, আর মাটিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ,সাগরকন্যা যেন রঙ, জল আর প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠেছে নতুন করে। পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি উৎসব, যা ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেছেন রাখাইন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল শেষ বিকেলে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মাঠে তিনদিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। রাখাইন মহা সংগ্রাইন, বর্ষবরণ ও জলকেলি উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক, মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সকালে ধর্মীয় প্রার্থনা ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত জলকেলি পর্ব, যেখানে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। যেন পানির প্রতিটি ছোঁয়ায় মুছে যায় পুরোনো বছরের সব দুঃখ, গ্লানি আর ক্লান্তি।
উৎসবস্থলজুড়ে রঙিন পোশাকে সজ্জিত মানুষের ঢল, মুখে উজ্জ্বল হাসি আর চারদিকে মিলনমেলার আবহ,সব মিলিয়ে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়।


উৎসবে জলকেলির পাশাপাশি পরিবেশিত হয় রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রতিটি পরিবেশনা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। এতে উৎসবের আনন্দ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এ উৎসব দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। তাদের উপস্থিতিতে পুরো কুয়াকাটা হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল। অনেক পর্যটক রাখাইন সংস্কৃতির এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য রাখাইন মংচেওয়েন জানান, “পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করতেই এ জলকেলি উৎসবের আয়োজন। এটি শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক।”
এদিকে উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তায় ব্যবস্থা ছিল। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, উৎসবকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।জলকেলির ছোঁয়ায়, হাসির উচ্ছ্বাসে আর সংস্কৃতির রঙে কুয়াকাটা যেন আবারও প্রমাণ করল,উৎসব শুধু আনন্দ নয়, এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ রাখাইন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠঅনের মধ্য দিয়ে শনিবার এই উৎসব শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায় থমকে উপকূল মাছ নেই, আয়ের পথ বন্ধ,পটুয়াখালীর জেলেপল্লীতে বাড়ছে ঋণ, দুশ্চিন্তা আর পেশা বদলের ভাবনা

জলরঙে ভেসে উঠল কুয়াকাটা রাখাইনদের জলকেলি উৎসবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতলো সাগরকন্যা

প্রকাশিত : ০৬:৩১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: কুয়াকাটার আকাশে তখন বিকেলের নরম আলো, আর মাটিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ,সাগরকন্যা যেন রঙ, জল আর প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠেছে নতুন করে। পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী পানি বর্ষণ বা জলকেলি উৎসব, যা ঘিরে আনন্দে মেতে উঠেছেন রাখাইন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল শেষ বিকেলে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মাঠে তিনদিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর আগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। রাখাইন মহা সংগ্রাইন, বর্ষবরণ ও জলকেলি উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক, মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সকালে ধর্মীয় প্রার্থনা ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত জলকেলি পর্ব, যেখানে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে হাসি-আনন্দে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। যেন পানির প্রতিটি ছোঁয়ায় মুছে যায় পুরোনো বছরের সব দুঃখ, গ্লানি আর ক্লান্তি।
উৎসবস্থলজুড়ে রঙিন পোশাকে সজ্জিত মানুষের ঢল, মুখে উজ্জ্বল হাসি আর চারদিকে মিলনমেলার আবহ,সব মিলিয়ে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়।


উৎসবে জলকেলির পাশাপাশি পরিবেশিত হয় রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রতিটি পরিবেশনা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। এতে উৎসবের আনন্দ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এ উৎসব দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। তাদের উপস্থিতিতে পুরো কুয়াকাটা হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল। অনেক পর্যটক রাখাইন সংস্কৃতির এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য রাখাইন মংচেওয়েন জানান, “পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করতেই এ জলকেলি উৎসবের আয়োজন। এটি শুধু আনন্দের উৎসব নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক।”
এদিকে উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তায় ব্যবস্থা ছিল। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, উৎসবকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।জলকেলির ছোঁয়ায়, হাসির উচ্ছ্বাসে আর সংস্কৃতির রঙে কুয়াকাটা যেন আবারও প্রমাণ করল,উৎসব শুধু আনন্দ নয়, এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের হৃদয়ের এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ রাখাইন সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠঅনের মধ্য দিয়ে শনিবার এই উৎসব শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।