ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

“তেল নেই” অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ: কালকিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:১২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

oplus_0

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সংকটের অভিযোগ উঠেছে। “তেল নেই” অজুহাতে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে বরিশাল সদর হাসপাতালে নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)  কালকিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের জামাল খন্দকারের ১২ বছর বয়সী মেয়ে তানজিদ ভুলবশত ডিটারজেন্ট পাউডার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এ সময় রোগীর স্বজন আলামিন মোল্লা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাকি জানান, “তেল নেই, তাই অ্যাম্বুলেন্স যাবে না।”
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার রাতে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে আলামিন মোল্লা বলেন,“আমাদের রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। দ্রুত বরিশাল নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বলা হলো তেল নেই, অ্যাম্বুলেন্স যাবে না। ড্রাইভারের নম্বরও বন্ধ ছিল। আমরা চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে যাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সক্রিয় থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় রোগী পরিবহনে অনাগ্রহ দেখায়। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকতে পারেন বলেও তার দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, “আমার যোগদানের পাঁচ মাসে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম। অ্যাম্বুলেন্সে তেলের ঘাটতি কখনো কখনো থাকতে পারে। বিষয়টি আরএমও ডা. অহিদুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী দুটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলেও বর্তমানে একটি রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় পটুয়াখালী এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলীর আগমনে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা

“তেল নেই” অজুহাতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ: কালকিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত : ১১:১২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সংকটের অভিযোগ উঠেছে। “তেল নেই” অজুহাতে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে বরিশাল সদর হাসপাতালে নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)  কালকিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের জামাল খন্দকারের ১২ বছর বয়সী মেয়ে তানজিদ ভুলবশত ডিটারজেন্ট পাউডার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে দ্রুত কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এ সময় রোগীর স্বজন আলামিন মোল্লা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করলে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাকি জানান, “তেল নেই, তাই অ্যাম্বুলেন্স যাবে না।”
অভিযোগ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার রাতে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে আলামিন মোল্লা বলেন,“আমাদের রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। দ্রুত বরিশাল নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু হাসপাতাল থেকে বলা হলো তেল নেই, অ্যাম্বুলেন্স যাবে না। ড্রাইভারের নম্বরও বন্ধ ছিল। আমরা চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে যাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সক্রিয় থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় রোগী পরিবহনে অনাগ্রহ দেখায়। কিছু ক্ষেত্রে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকতে পারেন বলেও তার দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, “আমার যোগদানের পাঁচ মাসে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম। অ্যাম্বুলেন্সে তেলের ঘাটতি কখনো কখনো থাকতে পারে। বিষয়টি আরএমও ডা. অহিদুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চাহিদা অনুযায়ী দুটি অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলেও বর্তমানে একটি রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।