কুমিল্লা প্রতিনিধি: ক্যান্সার রোগীদের শুধু ওষুধের প্রয়োজন হয় না, তাদের প্রয়োজন মানসিক শক্তি ও সামাজিক সমর্থন। প্রফেসর ড.জেসমিন পারভীন সিমা নিজেই ক্যানসারে আক্রান্ত। তার অভিজ্ঞতার আলোকে এই মানবিক উদ্যোগ কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি এই অসহায় পরিবারগুলোকে বেঁচে থাকার নতুন আশা জোগাবে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩ টায় দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মিলনায়তনে আয়েজিত “রেইজ ইয়োর হ্যান্ডস ফর নিডস ক্যানসার পেশেন্টস” গ্রুপের উদ্যোগে এবং “দেবীদ্বার উপজেলা জনকল্যাণ” সংঘের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ ওই বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ আরো বলেন, “ক্যান্সার মানেই কেবল অবর্ণনীয় শারীরিক কষ্ট নয়, একটি মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের জন্য এক চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এমন ৩৮ জন অসহায় ও দরিদ্র ক্যান্সার রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ।
তিনি আরো বলেন, আপনারা নিজেদেরকে রোগী ভাববেন না, আপনারা আপনাদের যোদ্ধা ভাববেন, তা হলে ড. জেসমিন পারভীনের মতো সুস্থ্য জীবন যাপনের সুযোগ পাবেন।

ঢাকা বাংলা সরকারি কলেজের প্রফেসর ড. জেসমিন পারভীন সিমার সভাপতিত্বে এবং মো. সফিউল্লাহ সোহাগ এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,- উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, বিশিষ্ট বিশিষ্ট রাজনীতিক, সমাজ সেবক মো. আনোয়ার হোসেন ভুলু পাঠান, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সমাজ সেবক মো. মোজাফ্ফর আহমেদ, দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, সাংবাদিক সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল, ক্যানসারে আক্রান্ত মো. শাহ আলম প্রমূখ।
এ অনুষ্ঠানের ক্যানসার বিষয়ে সচেতনামূলক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন, ডাঃ মো. আল আমিন, ডাঃ মো. সাহেদ কামাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৩৮ জন (গলা ও ফুসফুসের ক্যান্সার, স্তন ও জরায়ু ক্যানসার, ব্লাড ও ব্রেইন ক্যানসারসহ বিভিন্ন ক্যানসারে আক্রান্ত) রোগীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ক্যান্সার সচেতনতামূলক বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে তাদের মাঝে ক্যান্সার প্রতিরোধী ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী বিভিন্ন ভেষজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং নানা ফল ও সবজির বীজ বিতরণ করা হয়। কীভাবে এইগাছগুলোর যত্ন নিতে হবে এবং দৈনন্দিন জীবনে এগুলো ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়েও রোগীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সহায়তা নিতে আসা এক বৃদ্ধ ক্যান্সার রোগীর স্বজন চোখে পানি নিয়ে বলেন, “ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আমরা দিশেহারা। এই বিপদের দিনে এভাবে কেউ ভালোবেসে পাশে দাঁড়াবে, তা ভাবিনি। এই টাকা আমাদের ওষুধের খরচ জোগাতে অনেক সাহায্য করবে।”
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বাংলা কলেজের মৃত্ত্বিকা বিভাগের প্রফেসর ড. জেসমিন পারভীন সিমা অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি নিজেও একজন ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিজ্ঞতা থেকে এখন সমাজের প্রতি আমার ক্ষুদ্র দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। এই মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারা এবং তাদের লড়াইয়ে শামিল হতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। সমাজের সামর্থ্যবান প্রত্যেকে যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কোনো ক্যান্সার রোগী নিজেকে একা ভাববেন না।”
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়, তবে কলেজ মিলনায়তন জুড়ে রয়ে যায় মানবতাবোধের এক পরম উষ্ণতা। এই মানবিক উদ্যোগ দেবীদ্বারের অসহায় মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলে দিয়ে গেল।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















