ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চার উপ-মহাব্যবস্থাপক চাকরিচ্যুত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চারজন উপ-মহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা হলেন— জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক। একই সঙ্গে দুজন সিনিয়র ম্যানেজার এবং দুজন কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।

চাকরিচ্যুত এক ডিজিএমকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ডিএসই-এর জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রয়োজন বিবেচনায় তার পদটির আর প্রয়োজন নেই। চাকরি অবসানের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন। এ ছাড়া ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অতিরিক্ত দুই মাসের সমপরিমাণ মোট বেতন দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, চাকরি অবসানের দিনই পরিচয়পত্র, নথিপত্র, ব্যবসায়িক কার্ডসহ ডিএসই-এর সব সম্পদ ও গোপনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তর করতে হবে এবং চাকরি শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।

চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা বলেন, আমাকে ডেকে নিয়ে চিঠি ধরিয়ে বলল, আপনার চাকরি নেই। ডিএসই এর ইতিহাসে এভাবে হুট করে ডেকে নিয়ে চাকরিচ্যুত করার নজির নেই।

চাকরিচ্যুতদের আরেকজন মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চিঠিতে তাকে চাকরিচ্যুত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তার ভাষ্য, ‘আমি যখন ডিএসইতে যোগ দিই, তখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলাম। এত বছর কাজ করার পর যদি এটাই ফিডব্যাক হয়, তাহলে বলার কিছু নেই।’

এদিকে হুট করে চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সংস্থাটির ভেতরে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

তবে চাকরিচ্যুতির এই প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে ডিএসই-এর ভেতরে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি জানতে ডিএসই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক।

তবে ডিএসই-এর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। বরং প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ‘রিসোর্স অপটিমাইজেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিএসই এর লক্ষ্য, জনবল পুনর্গঠনের মাধ্যমে ডিএসইকে আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোয় রূপান্তর করা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চার উপ-মহাব্যবস্থাপক চাকরিচ্যুত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চার উপ-মহাব্যবস্থাপক চাকরিচ্যুত

প্রকাশিত : ১২:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চারজন উপ-মহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা হলেন— জেনারেল অ্যাডমিন বিভাগের মো. আব্দুল লতিফ ও হোসনে আরা পারভীন, আইসিটি বিভাগের শাহিন সারওয়ার এবং ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের সমন্বয়ক আব্দুর রাজ্জাক। একই সঙ্গে দুজন সিনিয়র ম্যানেজার এবং দুজন কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ।

চাকরিচ্যুত এক ডিজিএমকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, ডিএসই-এর জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রয়োজন বিবেচনায় তার পদটির আর প্রয়োজন নেই। চাকরি অবসানের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা তিনি পাবেন। এ ছাড়া ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অতিরিক্ত দুই মাসের সমপরিমাণ মোট বেতন দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, চাকরি অবসানের দিনই পরিচয়পত্র, নথিপত্র, ব্যবসায়িক কার্ডসহ ডিএসই-এর সব সম্পদ ও গোপনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে হস্তান্তর করতে হবে এবং চাকরি শেষ হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।

চাকরিচ্যুত এক কর্মকর্তা বলেন, আমাকে ডেকে নিয়ে চিঠি ধরিয়ে বলল, আপনার চাকরি নেই। ডিএসই এর ইতিহাসে এভাবে হুট করে ডেকে নিয়ে চাকরিচ্যুত করার নজির নেই।

চাকরিচ্যুতদের আরেকজন মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চিঠিতে তাকে চাকরিচ্যুত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তার ভাষ্য, ‘আমি যখন ডিএসইতে যোগ দিই, তখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলাম। এত বছর কাজ করার পর যদি এটাই ফিডব্যাক হয়, তাহলে বলার কিছু নেই।’

এদিকে হুট করে চার শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সংস্থাটির ভেতরে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে জনবল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

তবে চাকরিচ্যুতির এই প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে ডিএসই-এর ভেতরে চাকরি হারানোর আশঙ্কা নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি জানতে ডিএসই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক।

তবে ডিএসই-এর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। বরং প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ‘রিসোর্স অপটিমাইজেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিএসই এর লক্ষ্য, জনবল পুনর্গঠনের মাধ্যমে ডিএসইকে আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোয় রূপান্তর করা।