ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জবাসীর চোখে স্বপ্ন মিলনকে মন্ত্রী দেখার আশায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১১:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের হাওরের বাতাসে আজ অদ্ভুত এক কম্পন। মানুষের চোখে মুখে যে আলো ঝিলিক দেখা দিয়েছে, তা যেন বহু বছরের স্বপ্নের রং। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই ক‌লিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
হাওর-বাওরের এ জেলায় আওয়ামীলীগ সরকারের তিন মেয়াদেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর মর্যাদায় কোন না কোন সংসদ সদস্যকে রাখা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই জেলায় অবিস্মরণীয় বিজয় পেয়েছে। এই বিজয়ে এই সরকারেও এ জেলার কেউ মন্ত্রী পরিষদে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জেলাবাসী।
ভোটের পরদিন থেকেই সকলের মুখে মুখে আলোচনা এই জেলার কে হচ্ছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এক্ষেত্রে জেলার জ্যেষ্ঠ দুই সংসদ সদস্যের একজন নাছির উদ্দিন চৌধুরী শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ থাকায়, অন্য জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের নাম-ই আলোচনায় রয়েছে বেশি। তিনি এইবার চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ ভোটারের এই জেলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন ভোটারের এমপি। এ নির্বাচনে এক লক্ষ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ সালাম এক লাখ দুই হাজার ১২১ ভোট পান।
মিলন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বি.কম অনার্স এবং হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ১৯৮২ সালে। বিনয়ী, পরিশ্রমী পেশাদার রাজনীতিবিদ মিলন গেল ১৬ বছরের সরকার বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা রেখেছেন। দুর্দিনে রাজপথে কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে মিছিলে স্লোগান তুলতেও দেখা যেতো এই রাজনীতিবিদকে। আবার বিভিন্ন টেলিভিশনে দক্ষতার সঙ্গে দলের পক্ষে টক-শো মোকাবেলা করেছেন।
ছাত্রজীবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই দলের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে ২য় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে পরাজিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সামসূল হক নমু বলেন, দলের দুঃসময়ে কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্যবার রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ রাজনীতিতে নজির। আমরা দৃঢ়ভাবে চাই, বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কাছে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে তাঁকে। এটি কেবল এলাকার জন্য নয়, বরং সুনামগঞ্জ এবং হাওরাঞ্চলের জনগণের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
সাবেক ছাত্রনেতা সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আ ত ম মিসবাহ্ বললেন, বৃহত্তর সিলেটের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের মধ্যে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন অন্যতম। চারবারের এমপি, দলের দুর্দিনের লড়াকু মানুষ। উচ্চ শিক্ষিত এই রাজনীতিবেদকে সুনামগঞ্জবাসী মন্ত্রী পরিষদে দেখতে চায়।
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জবাসীর চোখে স্বপ্ন মিলনকে মন্ত্রী দেখার আশায়

প্রকাশিত : ১১:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জের হাওরের বাতাসে আজ অদ্ভুত এক কম্পন। মানুষের চোখে মুখে যে আলো ঝিলিক দেখা দিয়েছে, তা যেন বহু বছরের স্বপ্নের রং। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই ক‌লিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
হাওর-বাওরের এ জেলায় আওয়ামীলীগ সরকারের তিন মেয়াদেই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রীর মর্যাদায় কোন না কোন সংসদ সদস্যকে রাখা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এই জেলায় অবিস্মরণীয় বিজয় পেয়েছে। এই বিজয়ে এই সরকারেও এ জেলার কেউ মন্ত্রী পরিষদে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জেলাবাসী।
ভোটের পরদিন থেকেই সকলের মুখে মুখে আলোচনা এই জেলার কে হচ্ছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এক্ষেত্রে জেলার জ্যেষ্ঠ দুই সংসদ সদস্যের একজন নাছির উদ্দিন চৌধুরী শারীরিকভাবে বেশি অসুস্থ থাকায়, অন্য জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের নাম-ই আলোচনায় রয়েছে বেশি। তিনি এইবার চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ ভোটারের এই জেলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন ভোটারের এমপি। এ নির্বাচনে এক লক্ষ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ সালাম এক লাখ দুই হাজার ১২১ ভোট পান।
মিলন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বি.কম অনার্স এবং হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ১৯৮২ সালে। বিনয়ী, পরিশ্রমী পেশাদার রাজনীতিবিদ মিলন গেল ১৬ বছরের সরকার বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা রেখেছেন। দুর্দিনে রাজপথে কর্মীদের মনোবল চাঙা রাখতে মিছিলে স্লোগান তুলতেও দেখা যেতো এই রাজনীতিবিদকে। আবার বিভিন্ন টেলিভিশনে দক্ষতার সঙ্গে দলের পক্ষে টক-শো মোকাবেলা করেছেন।
ছাত্রজীবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই দলের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে ২য় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে পরাজিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সামসূল হক নমু বলেন, দলের দুঃসময়ে কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অসংখ্যবার রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ রাজনীতিতে নজির। আমরা দৃঢ়ভাবে চাই, বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কাছে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে তাঁকে। এটি কেবল এলাকার জন্য নয়, বরং সুনামগঞ্জ এবং হাওরাঞ্চলের জনগণের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
সাবেক ছাত্রনেতা সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আ ত ম মিসবাহ্ বললেন, বৃহত্তর সিলেটের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের মধ্যে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন অন্যতম। চারবারের এমপি, দলের দুর্দিনের লড়াকু মানুষ। উচ্চ শিক্ষিত এই রাজনীতিবেদকে সুনামগঞ্জবাসী মন্ত্রী পরিষদে দেখতে চায়।