সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) খুলে দেওয়া হয় মসজিদটি। গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে উমাইয়া মসজিদ। ২০১৩ সালে মসজিদটিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল ইখবারিয়ার খবরে বলা হয়, পুনরুদ্বোধন অনুষ্ঠানে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গভর্নর আল-গারিব বলেন, আজ আমরা আল্লাহর অন্যতম একটি ঘর পুনরায় চালু করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। কয়েক বছরের ধ্বংসযজ্ঞ কাটিয়ে আলেপ্পোর এই ঐতিহাসিক মসজিদকে আমরা আবার আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, উমাইয়া আমলের এই মসজিদটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঐতিহাসিক আলেপ্পো শহরের শিক্ষা ও ধর্মীয় জীবনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরীয় গণঅভ্যুত্থানের সময় এই মসজিদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে গভর্নর বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকেই অনেক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছিল।
২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন শাসক দল ও বিরোধী দলগুলোর তীব্র লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকা। ওই সময় বেশ কয়েকবার এর নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হয়।
সংঘাত ও ভারী গোলাবর্ষণে মসজিদের গম্বুজ, বারান্দা এবং ঐতিহাসিক মিনারসহ অন্যান্য অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২০১৩ সালে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর, আলেপ্পোর ওয়াকফ অধিদপ্তর মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে সংস্কার কাজ শুরু করে।
গ্রেট উমাইয়া মসজিদ বা আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় মসজিদ সিরিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। অষ্টম শতাব্দীর গোড়ার দিকে উমাইয়া আমলে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। অধিকাংশ ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, তৎকালীন খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















