ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বড় গর্ত: দিনে ঝুঁকি, রাতে মৃত্যুফাঁদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৪:৫৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রা এলাকায় রাস্তার ঠিক মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় কংক্রিট ভেঙে ভেতরের রড বের হয়ে পড়েছে। এতে করে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের বেলা কোনোমতে দেখে চালিয়ে পার হওয়া গেলেও রাতের আঁধারে এই গর্ত চালকদের জন্য রীতিমতো ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিত্রে দেখা যায়, চন্দ্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে প্রায় এক হাত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের ভেতরে রাস্তার তীক্ষ্ণ রড বেরিয়ে আছে এবং দীর্ঘদিন মেরামত না করায় পাশে আগাছা পর্যন্ত জন্মেছে। এই মরণফাঁদের ওপর দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, লেগুনা ও অটোরিকশাসহ হাজার হাজার যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এক পথচারী লিখেছেন, “চন্দ্রার মতো ব্যস্ত মহাসড়কে এভাবে রড বেরিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে আছে, অথচ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কি চেয়ারে স্থায়ীভাবে বসে গেছেন? দ্রুত সময় স্থায়ী মেরামত না করা হলে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের বাস চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “চন্দ্রা এলাকার এই গর্তটা অনেক দিনের। দিনে তাও দেখে এড়িয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু রাতে কোনোভাবেই বোঝা যায় না। হঠাৎ দ্রুতগতির কোনো গাড়ি এই গর্তে পড়লে বড় ধরনের উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গতকাল আমার গাড়িটি এই গর্তে পড়ে চাকা ভেঙে গেছে। ভেতরের বেরিয়ে থাকা রডে লেগে টায়ার কেটে সোর্মাঘাত হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন আয়ের বদলে লোকসান গুনছি।”

নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “জাতীয় মানের এত বড় মহাসড়কে এমন এক হাত গভীর গর্ত থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ কি ঘুমিয়ে আছে? বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত কি তাদের চোখ খুলবে না?”

এ অবস্থায় যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসেন-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অনতিবিলম্বে মরণফাঁদটি ভরাট করে মহাসড়কটির স্থায়ী টেকসই মেরামত নিশ্চিত করা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাদা গোলাপ হাতে কালো গাউনে অপূর্ব সুন্দর লাগছে মেহজাবীনকে

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বড় গর্ত: দিনে ঝুঁকি, রাতে মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশিত : ০৪:৫৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রা এলাকায় রাস্তার ঠিক মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় কংক্রিট ভেঙে ভেতরের রড বের হয়ে পড়েছে। এতে করে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দিনের বেলা কোনোমতে দেখে চালিয়ে পার হওয়া গেলেও রাতের আঁধারে এই গর্ত চালকদের জন্য রীতিমতো ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চিত্রে দেখা যায়, চন্দ্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে প্রায় এক হাত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তের ভেতরে রাস্তার তীক্ষ্ণ রড বেরিয়ে আছে এবং দীর্ঘদিন মেরামত না করায় পাশে আগাছা পর্যন্ত জন্মেছে। এই মরণফাঁদের ওপর দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, লেগুনা ও অটোরিকশাসহ হাজার হাজার যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক ব্যবহারকারীরা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এক পথচারী লিখেছেন, “চন্দ্রার মতো ব্যস্ত মহাসড়কে এভাবে রড বেরিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে আছে, অথচ মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কি চেয়ারে স্থায়ীভাবে বসে গেছেন? দ্রুত সময় স্থায়ী মেরামত না করা হলে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”

ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের বাস চালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “চন্দ্রা এলাকার এই গর্তটা অনেক দিনের। দিনে তাও দেখে এড়িয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু রাতে কোনোভাবেই বোঝা যায় না। হঠাৎ দ্রুতগতির কোনো গাড়ি এই গর্তে পড়লে বড় ধরনের উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গতকাল আমার গাড়িটি এই গর্তে পড়ে চাকা ভেঙে গেছে। ভেতরের বেরিয়ে থাকা রডে লেগে টায়ার কেটে সোর্মাঘাত হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন আয়ের বদলে লোকসান গুনছি।”

নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “জাতীয় মানের এত বড় মহাসড়কে এমন এক হাত গভীর গর্ত থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কর্তৃপক্ষ কি ঘুমিয়ে আছে? বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত কি তাদের চোখ খুলবে না?”

এ অবস্থায় যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়াতে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসেন-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অনতিবিলম্বে মরণফাঁদটি ভরাট করে মহাসড়কটির স্থায়ী টেকসই মেরামত নিশ্চিত করা হোক।