ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত।

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ১২:০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

বেলা ১১টা, ঢাকার উত্তরে আশুলিয়ায় হা-মীম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানায় প্রতিটি ফ্লোরেই কর্মব্যস্ততা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল জিগস মেশিন দিয়ে সুনির্দিষ্ট মাপে ডেনিমের কাপড় কাটা হচ্ছে। পাশের কর্মীরা সেগুলো সেলাই করে জিন্স, স্কার্ট ও জ্যাকেটে রূপ দিচ্ছেন।

এরপর ওয়াশিং, আয়রনিং, বোতাম ও জিপার লাগানোর পর ব্র্যান্ড লেবেল সাঁটানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে গ্যাপ, আমেরিকান ইগল ও জেসিপেনির মতো ব্রান্ড। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ হাজার কর্মী মিলে প্রতি মাসে ৯৩ লাখ তৈরি পোশাক উৎপাদন করে।

কিন্তু হঠাৎ করেই কারখানার বাতিগুলো নিভে গেল। এরপর বিকট শব্দে চালু হয়ে যায় চারটি ডিজেল জেনারেটর, সঙ্গে সঙ্গে আবার আলোকিত হলো কারখানাটি। গ্যাসের চাপ কমলেই জেনারেটরগুলো এভাবে চালু হয়ে যায়।

হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটির প্রধান তানুল চক্রবর্তী টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ খারাপ। এখানে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। গ্যাসের পর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি হলো ডিজেল। গ্রিডের বিদ্যুৎ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। বলতে গেলে পুরো অর্থনীতিই ডিজেলের ওপর ভর করে চলে।

এরপর ওয়াশিং, আয়রনিং, বোতাম ও জিপার লাগানোর পর ব্র্যান্ড লেবেল সাঁটানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে গ্যাপ, আমেরিকান ইগল ও জেসিপেনির মতো ব্রান্ড। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ হাজার কর্মী মিলে প্রতি মাসে ৯৩ লাখ তৈরি পোশাক উৎপাদন করে।

কিন্তু হঠাৎ করেই কারখানার বাতিগুলো নিভে গেল। এরপর বিকট শব্দে চালু হয়ে যায় চারটি ডিজেল জেনারেটর, সঙ্গে সঙ্গে আবার আলোকিত হলো কারখানাটি। গ্যাসের চাপ কমলেই জেনারেটরগুলো এভাবে চালু হয়ে যায়।

হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটির প্রধান তানুল চক্রবর্তী টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ খারাপ। এখানে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। গ্যাসের পর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি হলো ডিজেল। গ্রিডের বিদ্যুৎ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। বলতে গেলে পুরো অর্থনীতিই ডিজেলের ওপর ভর করে চলে।

তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এটা খুবই খারাপ খবর। এই খাত দেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস। সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে। ২০২৫ সালে এই খাত থেকে ৩৮.৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি। (হা-মীম গ্রুপই এককভাবে ১০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।)

তবে এই জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। পুরো গ্লোবাল সাউথে এর প্রভাব পড়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সপ্তাহে চার কর্মদিবস চালু করেছে ফিলিপিন্স। পাশাপাশি সরকারি ভ্রমণে বিধিনিষেধ এবং ফ্লাইট বাতিলের মতো পদক্ষেপও নিতে হয়েছে। নাইজেরিয়ায় ডিজেলের দাম ৮৬ শতাংশ এবং তানজানিয়া ও ইথিওপিয়ায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে পরিবহন এবং জেনারেটরচালিত বিদ্যুতের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে কৃষিপণ্য ও খাদ্যের দামও বেড়েছে।

আড়াই হাজারের বেশি পোশাক কারখানার প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা এই পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট। আশা করছি তিন বা চার বছরের মধ্যে হয়তো আর বিদ্যুৎ সংকট থাকবে না।

তবে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দামের কারণে আপাতত স্বস্তির কোনো আশা নেই। এতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষকে কষ্ট সহ্য করতেই হচ্ছে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেলকেন্দ্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। জবাবে সৌদি আরবও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

দৈনিক ২২ হাজার পোশাক তৈরি করা ‘ফতুল্লা অ্যাপারেলস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য এটি চরম এক সংকটকাল। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ না থাকলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত।

প্রকাশিত : ১২:০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বেলা ১১টা, ঢাকার উত্তরে আশুলিয়ায় হা-মীম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানায় প্রতিটি ফ্লোরেই কর্মব্যস্ততা। ইন্ডাস্ট্রিয়াল জিগস মেশিন দিয়ে সুনির্দিষ্ট মাপে ডেনিমের কাপড় কাটা হচ্ছে। পাশের কর্মীরা সেগুলো সেলাই করে জিন্স, স্কার্ট ও জ্যাকেটে রূপ দিচ্ছেন।

এরপর ওয়াশিং, আয়রনিং, বোতাম ও জিপার লাগানোর পর ব্র্যান্ড লেবেল সাঁটানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে গ্যাপ, আমেরিকান ইগল ও জেসিপেনির মতো ব্রান্ড। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ হাজার কর্মী মিলে প্রতি মাসে ৯৩ লাখ তৈরি পোশাক উৎপাদন করে।

কিন্তু হঠাৎ করেই কারখানার বাতিগুলো নিভে গেল। এরপর বিকট শব্দে চালু হয়ে যায় চারটি ডিজেল জেনারেটর, সঙ্গে সঙ্গে আবার আলোকিত হলো কারখানাটি। গ্যাসের চাপ কমলেই জেনারেটরগুলো এভাবে চালু হয়ে যায়।

হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটির প্রধান তানুল চক্রবর্তী টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ খারাপ। এখানে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। গ্যাসের পর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি হলো ডিজেল। গ্রিডের বিদ্যুৎ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। বলতে গেলে পুরো অর্থনীতিই ডিজেলের ওপর ভর করে চলে।

এরপর ওয়াশিং, আয়রনিং, বোতাম ও জিপার লাগানোর পর ব্র্যান্ড লেবেল সাঁটানো হয়। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে গ্যাপ, আমেরিকান ইগল ও জেসিপেনির মতো ব্রান্ড। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯০ হাজার কর্মী মিলে প্রতি মাসে ৯৩ লাখ তৈরি পোশাক উৎপাদন করে।

কিন্তু হঠাৎ করেই কারখানার বাতিগুলো নিভে গেল। এরপর বিকট শব্দে চালু হয়ে যায় চারটি ডিজেল জেনারেটর, সঙ্গে সঙ্গে আবার আলোকিত হলো কারখানাটি। গ্যাসের চাপ কমলেই জেনারেটরগুলো এভাবে চালু হয়ে যায়।

হা-মীম গ্রুপের পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটির প্রধান তানুল চক্রবর্তী টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ খারাপ। এখানে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। গ্যাসের পর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি হলো ডিজেল। গ্রিডের বিদ্যুৎ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। বলতে গেলে পুরো অর্থনীতিই ডিজেলের ওপর ভর করে চলে।

তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য এটা খুবই খারাপ খবর। এই খাত দেশের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস। সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে। ২০২৫ সালে এই খাত থেকে ৩৮.৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি। (হা-মীম গ্রুপই এককভাবে ১০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে।)

তবে এই জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। পুরো গ্লোবাল সাউথে এর প্রভাব পড়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সপ্তাহে চার কর্মদিবস চালু করেছে ফিলিপিন্স। পাশাপাশি সরকারি ভ্রমণে বিধিনিষেধ এবং ফ্লাইট বাতিলের মতো পদক্ষেপও নিতে হয়েছে। নাইজেরিয়ায় ডিজেলের দাম ৮৬ শতাংশ এবং তানজানিয়া ও ইথিওপিয়ায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে পরিবহন এবং জেনারেটরচালিত বিদ্যুতের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে কৃষিপণ্য ও খাদ্যের দামও বেড়েছে।

আড়াই হাজারের বেশি পোশাক কারখানার প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আমরা এই পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট। আশা করছি তিন বা চার বছরের মধ্যে হয়তো আর বিদ্যুৎ সংকট থাকবে না।

তবে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দামের কারণে আপাতত স্বস্তির কোনো আশা নেই। এতে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষকে কষ্ট সহ্য করতেই হচ্ছে। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেলকেন্দ্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। জবাবে সৌদি আরবও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

দৈনিক ২২ হাজার পোশাক তৈরি করা ‘ফতুল্লা অ্যাপারেলস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য এটি চরম এক সংকটকাল। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ না থাকলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হতো।