ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় মৃতপ্রায় খাকদোন নদ খননে ২০ কোটি টাকার উদ্যোগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার মৃতপ্রায় খাকদোন নদে প্রাণ ফেরাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ নদটির প্রায় ১৬ কিলোমিটার নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। কোথাও পরিণত হয়েছে সরু খালে, কোথাও বন্ধ হয়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। নদীর জায়গায় গড়ে উঠেছে সড়ক, বাঁধ ও বসতবাড়ি। এমন পরিস্থিতিতে পুনঃখননের উদ্যোগ আশার আলো দেখালেও দখল ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নদটির স্বাভাবিক প্রবাহ কতটা ফিরিয়ে আনা যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে স্থানীয়দের।

খাকদোন নদ একসময় বিষখালী ও পায়রা নদীর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল। এ নদ দিয়ে চলত যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী নৌযান। নদকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য আহরণ ও কৃষিকাজেও ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দীর্ঘদিন খনন না করা, পলি জমা, দখল ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে সেই নদ এখন নিজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। নদটির সঙ্গে সংযুক্ত ১৫টির বেশি প্রাকৃতিক খালও রয়েছে ঝুঁকিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিষখালী নদ থেকে বরগুনা শহরসংলগ্ন প্রায় চার কিলোমিটার অংশে এখনো পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করছে। তবে টাউন হল ব্রিজ পেরোলেই বদলে যায় নদটির চিত্র। কোথাও পানি কমে নদ সরু হয়ে এসেছে, কোথাও পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে পায়রা নদীমুখী পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সড়ক, বাঁধ ও স্থাপনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কদমতলার ব্যবসায়ী আলহাজ আবদুল হক শরীফ বলেন, খাকদোন নদে তাঁর দোকানের উত্তর পাশে সরকারি টার্মিনাল ছিল। একসময় এ নদে বড় বড় লঞ্চ চলত, ব্যবসায়ীরা নৌপথে মালামাল আনতেন। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদটি ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও নদ বা খালের অস্তিত্বও সহজে বোঝা যায় না।

নাব্যতা হারানোর প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। স্থানীয় কৃষক সরোয়ার হোসেন বলেন, নদে পানি না থাকায় সেচের সংকট দেখা দিচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আবার বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। নদটি পুনরুদ্ধার করা গেলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন—দুই ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা তাঁর।

পাউবো বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান জানান, খাকদোন নদকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ২১ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরগুনা পৌরসভার টাউন হল এলাকা থেকে পূর্ব দিকে পায়রা নদ পর্যন্ত খননের উদ্যোগ রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি বছরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইন কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্র রাখার দাবিতে বিক্ষোভ, অবরোধের হুঁশিয়ারি

বরগুনায় মৃতপ্রায় খাকদোন নদ খননে ২০ কোটি টাকার উদ্যোগ

প্রকাশিত : ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার মৃতপ্রায় খাকদোন নদে প্রাণ ফেরাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ নদটির প্রায় ১৬ কিলোমিটার নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। কোথাও পরিণত হয়েছে সরু খালে, কোথাও বন্ধ হয়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। নদীর জায়গায় গড়ে উঠেছে সড়ক, বাঁধ ও বসতবাড়ি। এমন পরিস্থিতিতে পুনঃখননের উদ্যোগ আশার আলো দেখালেও দখল ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নদটির স্বাভাবিক প্রবাহ কতটা ফিরিয়ে আনা যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে স্থানীয়দের।

খাকদোন নদ একসময় বিষখালী ও পায়রা নদীর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ছিল। এ নদ দিয়ে চলত যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী নৌযান। নদকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য আহরণ ও কৃষিকাজেও ছিল এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দীর্ঘদিন খনন না করা, পলি জমা, দখল ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে সেই নদ এখন নিজ অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। নদটির সঙ্গে সংযুক্ত ১৫টির বেশি প্রাকৃতিক খালও রয়েছে ঝুঁকিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিষখালী নদ থেকে বরগুনা শহরসংলগ্ন প্রায় চার কিলোমিটার অংশে এখনো পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করছে। তবে টাউন হল ব্রিজ পেরোলেই বদলে যায় নদটির চিত্র। কোথাও পানি কমে নদ সরু হয়ে এসেছে, কোথাও পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া থেকে পায়রা নদীমুখী পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সড়ক, বাঁধ ও স্থাপনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কদমতলার ব্যবসায়ী আলহাজ আবদুল হক শরীফ বলেন, খাকদোন নদে তাঁর দোকানের উত্তর পাশে সরকারি টার্মিনাল ছিল। একসময় এ নদে বড় বড় লঞ্চ চলত, ব্যবসায়ীরা নৌপথে মালামাল আনতেন। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদটি ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। কোথাও নদ বা খালের অস্তিত্বও সহজে বোঝা যায় না।

নাব্যতা হারানোর প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। স্থানীয় কৃষক সরোয়ার হোসেন বলেন, নদে পানি না থাকায় সেচের সংকট দেখা দিচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আবার বর্ষায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। নদটি পুনরুদ্ধার করা গেলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন—দুই ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা তাঁর।

পাউবো বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান জানান, খাকদোন নদকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ২১ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরগুনা পৌরসভার টাউন হল এলাকা থেকে পূর্ব দিকে পায়রা নদ পর্যন্ত খননের উদ্যোগ রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি বছরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।