পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পুকুরপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছিল। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় কাজ। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বন্দরে এমন পরিস্থিতির জন্য ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধকে দায়ী করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
বন্দরের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় মানববন্ধন করেন তাঁরা। কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সালাম খান ওরফে ব্যারিস্টার সালামের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা বন্দরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস খতিয়ানের জমি উদ্ধারের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য পূবালী ব্যাংকের কালাইয়া শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। তবে পুকুরপাড়ের জমি নিজের বলে দাবি করে সালাম খান কাজে বাধা দেন। এরপর কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।
তাঁদের আরও অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দরের প্রাণকেন্দ্রের প্রায় ১৫০ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ মানববন্ধনে উপস্থাপন করেছেন কি না, তা জানা যায়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজসেবক আবুল হাসান মুনসুর, বিএনপি নেতা হাজী আব্দুল খালেক সরদার, যুবদল নেতা রাজন মনসুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কালাইয়া মার্চেন্টপট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, কালাইয়া বন্দর দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ ও বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা জড়িত। জমি ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। একই সঙ্গে বন্দরের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালাম খান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁকে ওই জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতের রায়ও তাঁর পক্ষে রয়েছে। সরকার আপিল করলে উচ্চ আদালত ওই জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। জমির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগকে অপপ্রচার বলে দাবি করেন সালাম খান।
এ বিষয়ে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহম্মেদ বলেন, পুকুরপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজটি সম্পন্ন হোক, তা তিনিও চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত জায়গার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, জমির বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তির পাশাপাশি কালাইয়া বন্দরের উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ এগিয়ে নেওয়া জরুরি।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















