ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঁচা সড়ক মেরামত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৮:৩১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে টুকের বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ গ্রামের মানুষ। সড়কটি সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় এবার পূজার ছুটিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন বিএনপি নেতা কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন। সম্প্রতি সড়কটির মেরামতকাজে অংশ নেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের কেউ মাটি কাটছেন, কেউ সড়কের গর্ত ভরাট করছেন। নিজেদের যাতায়াতের পথ চলাচলের উপযোগী করতে সবাই মিলে কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে এ সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ভেঙেচুরে গেছে। বর্ষায় হাওরবেষ্টিত এলাকাটি পানিতে তলিয়ে থাকে। শুকনো মৌসুমেও সড়কের বেহাল দশার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে রোগীদের উপজেলা শহরে নেওয়া ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ নানা কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এদিকে পোগলা ইউনিয়নের চন্দনকান্দি গ্রামের অটোরিকশাচালক কাবিল উদ্দিন বলেন, ‘এটি হাওরবেষ্টিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি পানির নিচে থাকে। শুকনো মৌসুমে মানুষ হেঁটে মোটামুটি চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল করা কঠিন। তাই আজ এলাকাবাসী সবাই মিলে রাস্তাটি মেরামতের চেষ্টা করছি। ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মিয়া বলেন, বড়ইগন্দ, শাহপুর, গোবিন্দপুর, খোড়াজান, বনগাঁও ও মাছুয়াকান্দাসহ আশপাশের প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই ঢাকায় থাকি। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারকে এই রাস্তা সংস্কার করতে দেখিনি। পূজার ছুটিতে বাড়িতে এসে রাস্তা সংস্কারের কাজে অংশ নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে।

এ বিষয়ে কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন বলেন,আমার ডাকে সাড়া দিয়ে এলাকাবাসী সড়ক সংস্কারের কাজে অংশ নিয়েছেন। প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বড়ইন্দ ইছাবাড়ির খালে কালভার্ট না থাকায় এক থেকে দেড় শ ফুট অংশ চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই আমরা সেখান থেকেই কাজ শুরু করেছি। এলাকাবাসী সবাই মিলে কাঁচা সড়কটি মেরামতের চেষ্টা করছি।তিনি আরও বলেন, ‘সবাই মিলে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে পারলে একসময় বড় সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব। আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে নিজের জায়গা থেকে বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত ও আদর্শ সমাজ গড়ার চেষ্টা করছি। মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, স্বেচ্ছাশ্রমে সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক হাজার মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় বসার আসন না ছেড়েই ‘কাঠের ক্রেন’ দিয়ে চা–বিস্কুট পরিবেশন করেন হাতেম আলী

নেত্রকোনায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঁচা সড়ক মেরামত

প্রকাশিত : ০৮:৩১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে টুকের বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ গ্রামের মানুষ। সড়কটি সংস্কারে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় এবার পূজার ছুটিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন বিএনপি নেতা কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন। সম্প্রতি সড়কটির মেরামতকাজে অংশ নেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের কেউ মাটি কাটছেন, কেউ সড়কের গর্ত ভরাট করছেন। নিজেদের যাতায়াতের পথ চলাচলের উপযোগী করতে সবাই মিলে কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি ওই এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে এ সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয় তাঁদের। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ভেঙেচুরে গেছে। বর্ষায় হাওরবেষ্টিত এলাকাটি পানিতে তলিয়ে থাকে। শুকনো মৌসুমেও সড়কের বেহাল দশার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে রোগীদের উপজেলা শহরে নেওয়া ও কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ নানা কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এদিকে পোগলা ইউনিয়নের চন্দনকান্দি গ্রামের অটোরিকশাচালক কাবিল উদ্দিন বলেন, ‘এটি হাওরবেষ্টিত এলাকা। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি পানির নিচে থাকে। শুকনো মৌসুমে মানুষ হেঁটে মোটামুটি চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল করা কঠিন। তাই আজ এলাকাবাসী সবাই মিলে রাস্তাটি মেরামতের চেষ্টা করছি। ইনাতনগর গ্রামের বাসিন্দা নান্নু মিয়া বলেন, বড়ইগন্দ, শাহপুর, গোবিন্দপুর, খোড়াজান, বনগাঁও ও মাছুয়াকান্দাসহ আশপাশের প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই ঢাকায় থাকি। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারকে এই রাস্তা সংস্কার করতে দেখিনি। পূজার ছুটিতে বাড়িতে এসে রাস্তা সংস্কারের কাজে অংশ নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে।

এ বিষয়ে কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন বলেন,আমার ডাকে সাড়া দিয়ে এলাকাবাসী সড়ক সংস্কারের কাজে অংশ নিয়েছেন। প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বড়ইন্দ ইছাবাড়ির খালে কালভার্ট না থাকায় এক থেকে দেড় শ ফুট অংশ চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই আমরা সেখান থেকেই কাজ শুরু করেছি। এলাকাবাসী সবাই মিলে কাঁচা সড়কটি মেরামতের চেষ্টা করছি।তিনি আরও বলেন, ‘সবাই মিলে ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে পারলে একসময় বড় সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব। আমি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে নিজের জায়গা থেকে বৈষম্যহীন, মাদকমুক্ত ও আদর্শ সমাজ গড়ার চেষ্টা করছি। মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, স্বেচ্ছাশ্রমে সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক হাজার মানুষ।