ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দেবীদ্বারে অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে ১টি খাল পুন:খননউদ্বোধন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : ০৯:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
কুমিল্লা প্রতিনিধি: প্রধান মন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের শর্ত; খাল খনন ও পুনঃখনন এবং খালের উভয় পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে ২টি খাল পুন:খননের বরাদ্ধ পেয়েছে। ওই কর্মসূচীর আওতায় প্রথম প্রকল্পের উদ্বোন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখাঁর গ্রামের জয়নালের বাড়ির মসজিদ থেকে পদুয়া গ্রাম হয়ে তেবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৩.১৫ কিলোমিটার খাল পুন:খননের উদ্বোধন করেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূর্যোগ ব‍‍্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বিএনপি উপজেলা আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন ও সদস‍্য সচিব কাদী মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, এনসিপি উপজেলা সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম‍্যান, ইউপি সদস‍্য বৃন্দ এবং এলাকার গন‍্যমান‍্য ব‍্যক্তিবর্গ। ওই খালটি প্রায় ৩.১৫ কিলো মিটার দৈর্ঘ এবং ১৫ ফুট থেকে কোথাও কোথাও ৩৫ ফুট প্রশস্তে খনন কাজে প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক ৫ শত টাকা পারিশ্রমিকে ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় সম্পন্ন করা হবে।  একই জনবলে এবং অর্থায়নে রসুলপুরের প্রায় ৩ কিলো মিটার দৈর্ঘ এবং ২৫ ফুট প্রশস্তে খাল পুন:খনন করা হবে।  দেবীদ্বারের ওই খালটি কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস‍্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র দক্ষিনাঞ্চলের মুখ‍্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) শনিবার (১৮ এপ্রিল) নিজ ইউনিয়ন রসুলপুর ইউনিয়নে রসুলপুর সৈয়দালী বাড়ির ব্রিজ থেকে গোপালনগর হয়ে বুড়িনদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
ইজিপি কর্মসূচীর আওতায় এবং দূর্যোগ‍ ব‍্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়  দেবীদ্বার কার্যালয়ের অর্থায়নে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শর্ত বাস্তবায়নে সারা দেশে খাল খনন ও পুনঃখনন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প কর্মসূচী বাস্তবায়ন হাতে নেয়া হয়। তারই ফলশ্রুতিতে কুমিল্লার ৬ টি উপজেলা অর্থাৎ দেবীদ্বার, চান্দিনা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার ২ টি করে খাল খনন ও পুন:খনন এবং খালের দু’পাড়ে বৃক্ষরোপনে বনায়ন বাস্তবায়নের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়।  দেবীদ্বারের উল্লেখযোগ্য শত শত বছরের ঐতিহ‍্যবহনকারী খাল মরজরা, গুয়াদ্বারা খাল, দোয়াইর খাল, রামপ্রাসাদ খাল, মনোয়ারা খাল, ভিংলাবাড়ি খাল, মরিচা খাল, খিরদ নদী, বুড়িনদীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খালের অধিকাংশই গোমতী, মেঘনা, তিতাস, মন্দবাগসহ বিভিন্ন নদীর সাথে সংযোগ ছিল। যেগুলো আজ দখলদারদের আবাসন, স্থাপনা, মার্কেট এবং আবাদী জমির দখলে।
গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে, একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, দেশী মাছ উৎপাদনে এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়রা মনে করেন, “এলাকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব প্রকল্প গ্রহণ অর্থাৎ খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ সকল খালই উদ্ধারকরে খনন জরুরী।দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় পানি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। খাল পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য তা খুবই উপকারে আসবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূর্যোগ ব‍‍্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ খাল দু’টি ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক ৫ শত টাকার বিনিময়ে সম্পন্ন করা হবে। দু’টি প্রকল্পের প্রাক্কলন ব‍্যায় হবে প্রায় ৭২ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা। এ ব‍্যাপারে খাল খনন উদ্বোধনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, খাল খনন বর্তমান সরকার্র একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষির উন্নয়ন, দেশী মাছের উৎপাদন, খালপাড়ে বনায়নসহ পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় এক অভূতপূর্ব অবদান রাখবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে মাসিক কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের বৃত্তি ও সনদ বিতরণ

দেবীদ্বারে অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে ১টি খাল পুন:খননউদ্বোধন

প্রকাশিত : ০৯:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কুমিল্লা প্রতিনিধি: প্রধান মন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের শর্ত; খাল খনন ও পুনঃখনন এবং খালের উভয় পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার অর্ধশতাধিক খালের মধ‍্যে ২টি খাল পুন:খননের বরাদ্ধ পেয়েছে। ওই কর্মসূচীর আওতায় প্রথম প্রকল্পের উদ্বোন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখাঁর গ্রামের জয়নালের বাড়ির মসজিদ থেকে পদুয়া গ্রাম হয়ে তেবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় ৩.১৫ কিলোমিটার খাল পুন:খননের উদ্বোধন করেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূর্যোগ ব‍‍্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বিএনপি উপজেলা আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন ও সদস‍্য সচিব কাদী মাসুদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, এনসিপি উপজেলা সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম‍্যান, ইউপি সদস‍্য বৃন্দ এবং এলাকার গন‍্যমান‍্য ব‍্যক্তিবর্গ। ওই খালটি প্রায় ৩.১৫ কিলো মিটার দৈর্ঘ এবং ১৫ ফুট থেকে কোথাও কোথাও ৩৫ ফুট প্রশস্তে খনন কাজে প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক ৫ শত টাকা পারিশ্রমিকে ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় সম্পন্ন করা হবে।  একই জনবলে এবং অর্থায়নে রসুলপুরের প্রায় ৩ কিলো মিটার দৈর্ঘ এবং ২৫ ফুট প্রশস্তে খাল পুন:খনন করা হবে।  দেবীদ্বারের ওই খালটি কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস‍্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র দক্ষিনাঞ্চলের মুখ‍্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) শনিবার (১৮ এপ্রিল) নিজ ইউনিয়ন রসুলপুর ইউনিয়নে রসুলপুর সৈয়দালী বাড়ির ব্রিজ থেকে গোপালনগর হয়ে বুড়িনদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
ইজিপি কর্মসূচীর আওতায় এবং দূর্যোগ‍ ব‍্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়  দেবীদ্বার কার্যালয়ের অর্থায়নে এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত শর্ত বাস্তবায়নে সারা দেশে খাল খনন ও পুনঃখনন এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্প কর্মসূচী বাস্তবায়ন হাতে নেয়া হয়। তারই ফলশ্রুতিতে কুমিল্লার ৬ টি উপজেলা অর্থাৎ দেবীদ্বার, চান্দিনা, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার ২ টি করে খাল খনন ও পুন:খনন এবং খালের দু’পাড়ে বৃক্ষরোপনে বনায়ন বাস্তবায়নের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়।  দেবীদ্বারের উল্লেখযোগ্য শত শত বছরের ঐতিহ‍্যবহনকারী খাল মরজরা, গুয়াদ্বারা খাল, দোয়াইর খাল, রামপ্রাসাদ খাল, মনোয়ারা খাল, ভিংলাবাড়ি খাল, মরিচা খাল, খিরদ নদী, বুড়িনদীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খালের অধিকাংশই গোমতী, মেঘনা, তিতাস, মন্দবাগসহ বিভিন্ন নদীর সাথে সংযোগ ছিল। যেগুলো আজ দখলদারদের আবাসন, স্থাপনা, মার্কেট এবং আবাদী জমির দখলে।
গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন ও পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে, একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, দেশী মাছ উৎপাদনে এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয়রা মনে করেন, “এলাকার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব প্রকল্প গ্রহণ অর্থাৎ খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ সকল খালই উদ্ধারকরে খনন জরুরী।দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট ও নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় পানি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। খাল পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষি ও পরিবেশের জন্য তা খুবই উপকারে আসবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দূর্যোগ ব‍‍্যাবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ খাল দু’টি ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক ৫ শত টাকার বিনিময়ে সম্পন্ন করা হবে। দু’টি প্রকল্পের প্রাক্কলন ব‍্যায় হবে প্রায় ৭২ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা। এ ব‍্যাপারে খাল খনন উদ্বোধনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, খাল খনন বর্তমান সরকার্র একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষির উন্নয়ন, দেশী মাছের উৎপাদন, খালপাড়ে বনায়নসহ পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় এক অভূতপূর্ব অবদান রাখবে।